প্রবাসীদের ভোট নিয়ে ওআইসির সহায়তা চাওয়া হয়েছে : ইসি সানাউল্লাহ
রাষ্ট্রদূতদের সাথে বৈঠক
Printed Edition
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পথে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়াও ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর কাছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোট দেয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমনকি সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গতকাল ওআইসিভুক্ত মিশন প্রধানদের মধ্যে ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন, তিন নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব ছাড়াও আলজেরিয়া, ব্রুনাই, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ জানান, উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করা হচ্ছে, মতবিনিময় হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশে ওআইসিভুক্ত দেশের মিশন প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
তিনি বলেন, তারা এসেছিলেন, আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন। আমাদের বর্তমান কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব কাজ হাতে নিয়েছি সেসব সম্পর্কে তাদের অবহিত করেছি।
আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ আরো বলেন, তারা প্রবাসী ভোটসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে কোনো কোনো রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার বিষয়ে এবং তাদের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমরা তাদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বলেছি যথাসময়ে এগুলো ফরমালাইজ করব। ইসির বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
পোস্টাল ব্যালট ও অনলাইন ভোটিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, পোস্টাল ব্যালট বর্তমানে কার্যকরী নয়। অনলাইন পদ্ধতি নিয়ে আজও তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। মিসরের রাষ্ট্রদূত জানালেন, তাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়, তারা চালু করে অনলাইন ভোটিং বন্ধ করে দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেছেন, তাদের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা ভালো, তবে পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইন ভোটিং চালুর অবস্থানে নেই তারা।
প্রক্সি ভোটিংয়ের বিষয়ে কয়েকটি দেশের অভিজ্ঞতার বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের দেশে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আরেকজনের সহায়তা নিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন। জমিজমাবিষয়ক কাজও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। আমাদের এখন মন্দের ভালো খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে চাই তাহলে কোনো না কোনো একটা অপশন বা সব অপশনের কম্বিনেশন আমাদের নিতে হবে। আর যদি বড় পরিসরে আমাদের প্রবাসীদের ভোট প্রদান করতে চাই তাহলে প্রক্সি ভোটিং ছাড়া আর কোনো বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। কারণ, অন্য যে দুটো বিকল্প রয়েছে এগুলো নিয়ে সর্বোচ্চ পাইলটিং পযায়ে যাওয়া যাবে, লার্জ স্কেলে ডিপ্লয় হয়ত করা যাবে না। তিনি জানান, আগামী এপ্রিলের শুরুতে বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠকের পর চূড়ান্ত পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি।
বৈঠক শেষে ওআইসি প্রতিনিধিদের পক্ষে বাংলাদেশের মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান বলেন, মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী বসবাস করেন। এ সরকারের অধীনে নির্বাচনী সংস্কারসহ সব সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করছে মালয়েশিয়া। আমরা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বিদেশী কর্মীদের বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে আগ্রহী।