ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে যায়নি জামায়াত

“প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে জামায়াতকে ‘ইগনোর’ করা হয়েছে বলে মনে করে দলটি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
Jamaat-Logo

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের অসমাপ্ত আলোচনায় গতকাল মঙ্গলবার অংশ নেয়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনায় অংশ নিয়েছে। গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের অসমাপ্ত আলোচনা শুরু হয়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ঈদের আগে গত ৩ জুনের বৈঠকে তার সাথে ছিলেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ। সে দিন সকালে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন থাকায় দুপুরের বিরতির পর দলটির প্রতিনিধিরা বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

গতকালের সভায় যোগ না দেয়া প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, বিষয়টি নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দেখছেন। এ বিষয়ে আমরা আগামীকাল (বুধবার) সিদ্ধান্ত জানাব।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে জামায়াত থাকবে না এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কারণ হিসেবে দলটি বলেছে, প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে জামায়াতকে ‘ইগনোর’ করা হয়েছে বলে মনে করে দলটি। এর প্রতিবাদ হিসেবে তারা বৈঠকে যোগ দেয়নি। জামায়াত বাদে গতকালের বৈঠকে বিএনপি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলনসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনুপস্থিতির বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

যুক্তরাষ্ট্রের উপ-কাউন্সিলরের সাথে জামায়াতে ইসলামীর বৈঠক : গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় দূতাবাসে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও অর্থনীতিবিষয়ক উপ-কাউন্সিলর এবং রাজনৈতিক শাখা প্রধান ম্যাথিউ বে-এর সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা, নেতৃত্ব নির্বাচন, সাংগঠনিক পদ্ধতি, গঠন কাঠামো ও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা এবং নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকারের ব্যাপারে সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এবং সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া গণহত্যার বিচার, সংস্কার, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে ম্যাথিউ বে-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল অফিসার হারমানাস্কি ও জ্যামি স্টেলি। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সৎ, যোগ্য ও আদর্শিক নেতৃত্ব ছাড়া জনগণের কল্যাণে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ভোগের মানসিকতা ছেড়ে, দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে হবে।

গতকাল জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের অফিস ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কামরুল আহসান হাসান। অফিস ওয়ার্ড সভাপতি মো: আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো: আলাউদ্দিনের পরিচালনায় অফিস ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জাতির প্রধান প্রত্যাশা ছিল সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়া। অথচ তারা জনগণের আকাক্সক্ষা না বুঝে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি আনুগত্যশীল হয়ে পড়েছেন। যা ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য বিনির্মাণে জাতি আপনাদের কাছ থেকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

গতকাল বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: সোহেল রানা মিঠুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মোশাররফ হোসাইন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে হাফিজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, মো: ওমর ফারুক, জুবায়ের আল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন চঞ্চল প্রমুখ।