তীব্র গ্যাসসঙ্কটে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
Printed Edition
- দীর্ঘ লাইনে থেকেও কাক্সিক্ষত গ্যাস পাচ্ছে না যানবাহন
- বিকল্প ব্যবস্থায়ও স্বস্তি নেই বাসাবাড়িতে
সারা দেশে তীব্র গ্যাসসঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে কলকারখানা এমনকি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনেও চলছে হাহাকার। গ্যাসের চুলার বিকল্প খুঁজতে গিয়ে গুনতে হয়েছে কয়েক গুণ বাড়তি টাকা। তাতেও স্বস্তি ফিরছে না। এদিকে সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন যানবাহনের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে থাকার পরও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ভাগ্যবান কেউ কেউ গ্যাস নিতে পারলেও তার পরিমাণ খুবই কম।
এদিকে সিএনজি চালিত অটোরিকশাগুলো গ্যাস না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। একই অবস্থায় রেন্ট এ কার এ চালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে। সেখানেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। উত্তরার বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি স্টেশনে দেখা যায়, পাম্পের সামনে থেকে যানবাহনের দীর্ঘলাইন দেড় কিলোমিটার লম্বা হয়েছে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেট কার চালক ফয়সাল হোসেন জানান, ভোর ৫টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। প্রায় ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর বেলা ১১টায় মাত্র ১৭০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। তবে এই গ্যাসে কর্মস্থল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সন্দিহান তিনি।
ইমরান নামের একজন প্রাইভেট কার চালক জানান, দক্ষিণখান থেকে গ্যাস নিতে এসে উত্তরার দু’টি পাম্প ঘুরে ভোর ৬টায় লাইনে দাঁড়ান তিনি। সড়কের দীর্ঘ সারি পেরিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তিনি গ্যাস পেয়েছেন ২১৭ টাকার। পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস না পাওয়ায় আক্ষেপ নিয়েই পাম্প ছাড়েন তিনি। গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও করেছেন চালকরা। মগবাজার থেকে গ্যাস নিতে আসা কামরান নামের এক চালক বলেন, পাম্পে থাকা লোকজন ১০০ থেকে ২০০ টাকার বিনিময়ে লাইন উপেক্ষা করে অনেককেই গ্যাস সরবরাহ করছেন।
আরমান রহমান নামে একজন চাকরিজীবী বলেন, এমনিতেই সিএনজি অটোরিকশায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে হয়। তার ওপর গ্যাস না থাকার কারণে তারা কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়েছে। ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকার কমে যেতে চায় না। কিছু বলতে গেলেই উত্তর দেয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে সামান্য একটু গ্যাস পাওয়া যায়। এতে ভাড়া কম নিলে অটোরিকশার জমার টাকাই ওঠে না। তাহলে পরিবার নিয়ে নিজেরা চলব কিভাবে।
এদিকে লাইনের গ্যাসের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে অনেক বাসাবাড়িতে বাধ্য হয়ে এলপিজি ও বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন। সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে আবার তার সাথে চুলাও কিনতে হচ্ছে। কারণ লাইনের গ্যাসের চুলার নজেল ও সিলিন্ডার গ্যাসের চুলার নজেল এক নয়। এতে করে সিলিন্ডার ব্যবহারে চুলাও কিনছেন অনেকে। অনেক বাসায় ব্যবহার করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক চুলা। তবে অভিজ্ঞতা না থাকায় এ চুলা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন গৃহিণীরা। তারা বলছেন, বৈদ্যুতিক চুলায় সবধরনের পাতিল ব্যবহার করা যায় না। একটি চুলায় রান্না করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অনেক সময় চুলা অতিরিক্ত গরম হয়ে নিজেই বন্ধ হয়ে যায়। আবার কমদামি চুলা হলে আগুন ধরে যাওয়ারও ভয় থাকে।
যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা ইমরুল হোসেন বলেন, গ্যাস থাকে না তাই বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করি। এতে বাড়তি খরচ দিতে হয়। গ্যাসের বিলও দিতে হচ্ছে, সিলিন্ডারের খরচও আছে। সংসারে ডাবল খরচ বহন করা আমাদের জন্য কষ্টকর।
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, গ্যাস পাচ্ছি না। এভাবে রান্না করা যায় না। দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস থাকেই না। মাঝে মধ্যে গভীর রাতে এলেও তার চাপ থাকে খুবই কম। এত কমচাপে রান্না করতে ঘণ্টা পার হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, প্রথম দিকে ধারণা ছিল এক-দু’দিনে গ্যাসের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তাই রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার খেয়েছি। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। আবার সরকারের পক্ষ থেকে এর সঠিক কোনো কারণ ও স্বাভাবিক হওয়ার সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না, যার কারণে একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।