সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের স্তম্ভ
বিদেশী কূটনীতিকদের অভিমত
Printed Edition
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকরা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রথম আলো অফিসের সামনে শিল্পী মাহবুবুর রহমানের ‘আলো’ শীর্ষক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদেশী কূটনীতিকরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকে কেন্দ্র করে গত বছর ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। কূটনীতিকরা পত্রিকা দুটির সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লেট এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো উপস্থিত ছিলেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের নির্ভীক রক্ষক।
ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, তথ্যের স্বাধীনতা আমাদের মূল্যবোধের মূলে রয়েছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি আমাদের সমর্থন জানানোর জন্য এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। ডিসেম্বরে ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলোর ওপর ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশের সদস্য হিসাবে আমরা সাংবাদিক, সম্পাদক এবং গণমাধ্যমের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিল্পী মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি এই ধ্বংসস্তূপের ভেতর নতুন প্রাণশক্তির উত্থানের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছি। এখানে যেসব বস্তু দগ্ধ হয়েছে, সেগুলো যেন এই কর্মস্থলের প্রাণস্পন্দনের কথা ও দগ্ধ হওয়ার যন্ত্রণার কথাই বলেছে। সেই যন্ত্রণা ও সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির ঘুরে দাঁড়ানো- উভয় বিষয়কে নান্দনিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে কবলিত ভবনটি নিয়ে প্রদর্শনীটি চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দর্শকদের জন্য প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে।