আলীকদমে মেয়াদ শেষেও সড়কের কার্পেটিং ৬০ শতাংশ বাকি

Printed Edition
bangla-2
আলীকদমে সড়কের কার্পেটিং উঠে বেহাল দশা : নয়া দিগন্ত

মমতাজ উদ্দিন আহমদ, আলীকদম (বান্দরবান)

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সড়কের কার্পেটিং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের প্রায় ৬০ শতাংশ এখনো বাকি। ঠিকাদারের ঋণখেলাপি অবস্থা ও প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এতে চার গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে থানচি সড়ক থেকে উত্তর পালংপাড়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার ২৭৫ মিটার সড়ক কার্পেটিংয়ের জন্য এক কোটি ৭১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ‘আপ্পান ঘূর্ণিঝড় ও পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় কাজটি পায় মেসার্স রাজু বড়ুয়া কনস্ট্রাকশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতি থেমে যায়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি।

অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে আংশিক কাজ করে প্রথম দফার বিল উত্তোলনের পর মূল ঠিকাদার কাজ উপ-ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ব্যাংক ঋণখেলাপি হওয়ায় দ্বিতীয় বিল উত্তোলন সম্ভব হয়নি। ফলে উপ-ঠিকাদাররাও কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও ভাঙা সড়ক, কোথাও বড় বড় খানাখন্দ। ধুলাবালিতে পাশের বসতঘরগুলো অতিষ্ঠ। বৃষ্টিতে কাদায় রূপ নেয় পথ। স্থানীয়রা বলছেন, বর্তমানে কাজের অগ্রগতি ৪০ শতাংশের বেশি নয়।

বাসিন্দা মোজাম্মেল ও সালাহ উদ্দিন বলেন, শুরুতে কিছু কাজ হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর অল্প সময়ের জন্য কাজ শুরু হলেও প্রায় এক বছর ধরে পুরোপুরি স্থবির। সড়কের বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। উপ-ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম বলেন, বিল না পাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। মূল ঠিকাদারের ঋণখেলাপির কারণে লেনদেনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে আবার কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

মেসার্স রাজু বড়ুয়া কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাজু বড়ুয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, ঠিকাদারের ব্যক্তিগত সমস্যায় দপ্তরের করার কিছু নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য কোনো আবেদন করেননি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে কাজ পুনরায় শুরু করা না হলে সড়কটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।