তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
Printed Edition
আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে নেমে এলেও নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। চরাঞ্চল ও তিস্তাপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানিতে তলিয়ে থাকায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও বসতভিটা প্লাবিত থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ৫১ দশমিক ৯৮ মিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে। এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টায় একই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং রাতভর সেই পরিস্থিতি বজায় ছিল। সোমবার সকাল থেকে পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
জেলার পাঁচটি উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় শত শত নলকূপ ও টয়লেট পানির নিচে চলে গেছে। এতে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা স্যানিটেশন সঙ্কটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বন্যার পানিতে তিস্তাপাড়ের কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। চরাঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা ও ভেলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের বন্যাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প থাকলেও এবার তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবর্ধন এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, রাতভর ঘরের ভেতরে পানি থাকায় পরিবার নিয়ে বিছানার ওপর বসেই সময় কাটাতে হয়েছে। পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
একই এলাকার বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, গবাদিপশু নিয়ে তারা চরম সঙ্কটে রয়েছেন। রাতভর পশু নিয়ে উঁচু সড়কে অবস্থান করতে হয়েছে। চার দিকে পানি থাকায় পশুখাদ্যেরও তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে আসায় তিস্তার পানিও ধীরে ধীরে কমছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে দ্রুত ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, বন্যা মোকাবেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে ২২০ মেট্রিক টন চাল ও সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।