লাল বলে রিশাদ-সাইফ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচের স্কোয়াডে দু’টি নাম হঠাৎ করেই বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে। একজন রিশাদ হোসেন অপরজন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। দু’জনেরই মূল পরিচয় সাদা বলের ক্রিকেটে। অথচ এবার লাল বল হাতে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ এসেছে। তাদেরও কপালটা ভালো এই কারণে যে, বাংলাদেশও দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে বিকল্প খুঁজছে। ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর চার দিনের ম্যাচটি পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে চলবে।

তবে স্কোয়াডে নাম থাকা আর একাদশে সুযোগ পাওয়া এক বিষয় নয়। দুজনই মাঠে নামবেন কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। কিন্তু একাদশে জায়গা পেলে তাদের পারফরম্যান্সের দিকে নজর থাকবে আলাদা করে। কারণ এটি নিছক ‘এ’ দলের আরেকটি ম্যাচ নয়; রিশাদের জন্য টেস্টের সম্ভাবনা নিয়ে চলা আলোচনার উত্তর দেয়ার সুযোগ, আর সাইফের জন্য দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে নিজের পুরনো দাবি নতুন করে জানানোর মঞ্চ।

বিশেষ করে রিশাদকে ঘিরে টেস্ট ক্রিকেটের আলোচনা নতুন নয়। জাতীয় দলের সাদা বলের ক্রিকেটে লেগ স্পিনের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও অবদান রাখা এই ক্রিকেটার বড় দৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটে কতটা কার্যকর হতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার চার দিনের ম্যাচটি সেই উত্তর খোঁজার একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

সাইফ উদ্দিনের গল্পটা কিছুটা ব্যাতিক্রম। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু চোট ও ধারাবাহিকতার অভাবে লাল বলের ক্রিকেট থেকে বেশ দূরে সরে গেছেন তিনি। সবশেষ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলেছেন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এরপর এবারই আবার চার দিনের ম্যাচের দলে ফিরলেন।

তবে দু’জনের এই সুযোগটা এসেছে ক্রিকেটীয় পরিকল্পনার স্বাভাবিক ধারায় নয়, বরং বেশ কিছু অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির কারণে। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব হয়নি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও এনামুল হককে দেশে ফিরতে হচ্ছে। এর সাথে চোটের কারণে শাহাদাত হোসেন, জাকির হাসান ও ইকবাল হোসেন ইমন ছিটকে গেছেন। প্রথম ম্যাচের দল থেকে বাদ পড়েছেন কালাম সিদ্দিকিও। সব মিলিয়ে একসাথে চারটি দল নিয়ে ব্যস্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট। জাতীয় দল ছাড়াও হাই পারফরম্যান্স দল আছে অস্ট্রেলিয়ায়, আর দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছে ইমার্জিং ও ‘এ’ দল। খেলোয়াড়ের প্রাপ্যতা, ভিসা ও চোট-সব মিলিয়ে নির্বাচকদের সামনে তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ।

দলের সাথে থাকা নির্বাচক নাদিফ চৌধুরী জানান, ‘ভিসা ইস্যু একটা বড় সমস্যা হয়েছিল। আমরা মেলাতে পারছিলাম না। চোট মিলিয়ে একটা বাজে অবস্থায় পড়ে গিয়েছি। এখন বাধ্য হয়ে সাদা বলে যারা খেলে, ওদেরকেই খেলাতে হবে। কোনো উপায় নেই। একটা আঁটসাঁট সূচি হয়ে গেছে। সবার প্রাপ্যতা আর ভিসা একটা বড় সমস্যা হয়েছে। ঠিকমতো গোছানো হয়নি এই দলটা, একসাথে সব দলের খেলা। আপনারাও দেখছেন হয়তো ৪-৫ জন ওপেনার (একসাথে খেলাতে হচ্ছে), তার পর সাদা বলের খেলোয়াড়দের খেলাচ্ছি। আসলে সমস্যা হয়ে গেছে।’

নির্বাচকদের সেই ‘সমস্যা’ই আবার রিশাদ ও সাইফের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। রিশাদ সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন গত নভেম্বরে জাতীয় লিগে। জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকলে অবশ্য দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে মাঝে মধ্যে খেলেন তিনি। ফলে লাল বলে তার প্রত্যাবর্তনটা সাইফের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক।

সাইফের জন্য পরীক্ষাটা বরং বড়। দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতির জন্য মিরপুরে নিয়মিত সাদা বলের অনুশীলনে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে আচমকাই চার দিনের ম্যাচে লাল বল হাতে নেয়ার পালা। দীর্ঘ সময় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বাইরে থাকা একজন ক্রিকেটারের জন্য এটি হতে পারে নিজের ফিটনেস, বোলিং ও ব্যাটিং সামর্থ্য আবার যাচাই করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

দ্বিতীয় ম্যাচের দলে ফিরেছেন জাকের আলি ও মুশফিক হাসানও। অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দল থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল ‘এ’ দলের হয়ে খেলানোর জন্য। ভিসা জটিলতার কারণে প্রথম চার দিনের ম্যাচে তারা যোগ দিতে পারেননি। অভিজ্ঞতার দিক থেকেও দলটি বেশ সমৃদ্ধ। নুরুল হাসান সোহানের ১১ টেস্টের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হওয়া তৌহিদ হৃদয় এবার নেতৃত্ব দেবেন দলকে। সাথে আছেন রেজাউর রহমান রাজা, যিনি বিভিন্ন সময়ে ‘এ’ দল, বিসিবি একাদশসহ নানা দলে খেলেছেন এবং টেস্ট স্কোয়াডেও জায়গা পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল-

মোহাম্মদ নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয়, আফিফ হোসেন, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয় (অধিনায়ক), হাসান মুরাদ, নাঈম হাসান, আল ফাহাদ, রেজাউর রহমান রাজা, জাকের আলি, মুশফিক হাসান, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।