চার বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প, কাজের আগেই বিল পরিশোধ

Printed Edition

মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলায় কমিউনিটিভিত্তিক ‘১০ বাড়ি পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশ অসমাপ্ত থাকলেও ঠিকাদারকে প্রায় ৬০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের অগ্রগতির তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেয়ার পর ঠিকাদার আর কাজ শেষ করতে মাঠে আসেননি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মধুপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৮টি সাবমার্সিবল পাম্প ও গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রায় এক কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছর পরও বেশির ভাগ স্থানে প্রকল্পটি কার্যকর হয়নি।

সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক স্থানে শুধু গভীর নলকূপের পাইপ বসানো হয়েছে। কোথাও পিলার নির্মাণ করা হলেও পানির ট্যাংক, পাইপলাইন ও সংযোগের কাজ সম্পন্ন হয়নি। কিছু স্থানে মোটর বসানো হলেও তা অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

মহিষমারা ইউনিয়নের জোসনা বেগম ও জহুরা বেগমসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রকল্পের জন্য প্রায় চার বছর আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও অর্থ নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা নিরাপদ পানির সুবিধা পাননি। কুড়ালিয়া ইউনিয়নের আরিফ হোসেন বলেন, ট্যাংক বসানোর জন্য পিলার নির্মাণ করা হলেও এখনো ট্যাংক স্থাপন করা হয়নি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের খন্দকার এন্টারপ্রাইজকে প্রায় ৮৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা বিল দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আরিফ খন্দকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন বলেন, কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন জানান, ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এ দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা, তদারকির অভাব ও অনিয়মের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে এবং প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।