চিকিৎসকশূন্য রাজারবাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র
Printed Edition
মো: মিজানুর রহমান চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রাজারবাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহায়তা কর্মীদের শূন্যপদে একমাত্র মিডওয়াইফের ঘাড়ে পড়েছে পুরো কেন্দ্রের দায়িত্ব। গর্ভবতী মা থেকে শুরু করে জ্বর-সর্দির রোগী- সবার চিকিৎসা, পরামর্শ, নথিপত্র ও ওষুধ ব্যবস্থাপনা একাই সামলাচ্ছেন তিনি। জনবল সঙ্কটে থমকে যাওয়া এই কেন্দ্রে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শত শত মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, বাস্তবে কেন্দ্রটির অনুমোদিত পাঁচটি পদ- মেডিক্যাল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, স্যাকমো, এমএলএসএস ও নিরাপত্তারক্ষী- সবগুলো পদই শূন্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রের পরীক্ষার কক্ষ, ঔষধাগার ও নথিপত্র সংরক্ষণের ঘরগুলো প্রায় নীরব। রোগীদের ভিড় নেই, কারণ চিকিৎসক নেই। আর এই শূন্যতার মাঝে একা দাঁড়িয়ে রয়েছেন মিডওয়াইফ পলি আক্তার। তিনি একাই রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তচাপ মাপা, ওজন নেয়া, গর্ভবতী মায়েদের দেখাশোনা এবং জরুরি পরামর্শ দেয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে তাকে।
পলি আক্তার জানান, কাজে যোগ দেয়ার পর থেকে তিনি কোনো মেডিক্যাল অফিসারের মুখ দেখেননি। ফার্মাসিস্ট না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ নিয়ে আসাও এখন প্রায় অসম্ভব। গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষার সময় অন্য কক্ষে গেলে এই কক্ষ ফাঁকা থাকে বলে ওষুধ ও মূল্যবান নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় থাকতে হয় তাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালিক বলেন, চিকিৎসকের অভাবে আমরা ছোটখাটো রোগ নিয়ে হবিগঞ্জ বা চুনারুঘাটেই যাই। তবে বাড়তি খরচ ও সময়ের পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকতে হয়। এ প্রসঙ্গে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মোজাম্মেল হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রে চিকিৎসক সঙ্কটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে দ্রুত পদায়ন সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: রতœদীপ বিশ্বাস বলেন, অনেক চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত। তাদের ফিরিয়ে আনা গেলে এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা গেলে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পদশূন্যের যে ঘাটতি আছে তা মেটানো সম্ভব।