কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠান ঘিরে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা না থাকলেও সতর্কতামূলকভাবে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী এসব কথা বলেন। এর কিছু সময় পরেই সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে যান র্যাবের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান।
পরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী বলেন, মহান শহীদ দিবসে ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ব্যাপক লোক সমাগম হবে। এ উপলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন থাকবে। কমিশনার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেভাবে অত্যন্ত সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে জনগণ ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, কোথাও কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল না। অমর একুশের অনুষ্ঠানেও কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। এরপরেও শহীদ মিনারে নিয়মিত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সোয়াট, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইম সিন ইউনিট সার্বণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিসহ সাইবার মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু শহীদ মিনারকেন্দ্রিক হয় না। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরা ঢাকা শহর নিয়ে এবং পুরা ঢাকা শহরকে আমরা সিকিউর রাখার জন্য সব সময় চেষ্টা করি। এখনো সেই চেষ্টা করে যাবো।
সাধারণের জন্য পলাশীর মোড়-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে শহীদ মিনারের রুট অনুসরণ করার নির্দেশনা দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এর বাইরে অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার থেকে রোমানা ক্রসিং হয়ে দোয়েল চত্বর অথবা চানখাঁরপুল হয়ে শহীদ মিনার ত্যাগ করা যাবে। তিনি বলেন, শহীদ মিনারে কেউ কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন না। সবাই নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করে শহীদ মিনারে প্রবেশ করবেন এবং নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করে প্রস্থান করবেন। আপনার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অন্যকে সুযোগ দিন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। কমিশনার বলেন, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসকারী শিক-ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেসব ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করে আমাদের সহযোগিতা করবেন।
একেএম শহিদুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয়ভাবে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকায় ইনার পেরিমিটার ও আউটার পেরিমিটার নির্ধারণ করে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো এলাকাকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরে ফুট পেট্রোল, গাড়ি টহল ও স্ট্রাইকিং রিজার্ভ রাখা হবে।
শহিদুর রহমান আরো বলেন, অতীতে ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফল হয়েছে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে। দাবি আদায় বা আন্দোলনের নামে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন র্যাব ডিজি। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা ও জীবনযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও সারা দেশে যেখানে যেখানে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে, সেসব স্থানেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।