পরীক্ষা না দিয়ে ব্রিতে যোগদান করতে গিয়ে ভুয়া প্রার্থী আটক

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

লিখিত, ভাইবা কিংবা প্র্যাকটিক্যাল- কোনো পরীক্ষায়ই নিজে অংশ নেননি। তবুও হাতে নিয়োগপত্র নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে এসে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়লেন এক প্রার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এ। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক (ডিজি)সহ কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

গত সোমবার সকালে ব্রির প্লাম্বার পদে যোগদান করতে আসেন সুজা মিয়া (৩২)। তিনি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুকড়া পাড় গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। ব্রি সূত্র জানায়, দুটি প্লাম্বার পদসহ মোট ১৯টি শূন্য পদে ৩১ জন জনবল অস্থায়ীভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে গেল বছরের ৫ অক্টোবরে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উত্তীর্ণদের যোগদানের চিঠি পাঠানো হয়।

সুজা মিয়া ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র পান এবং রোববার সদর দফতরে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন যে, সুজা মিয়ার এডমিট কার্ডে জনৈক মিলন মিয়ার ছবি সংযুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ তার হয়ে সব পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন অন্য ব্যক্তি।

জিজ্ঞাসাবাদে সুজা মিয়া দাবি করেন, তিনি মিলন মিয়াকে চেনেন না। শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি চাকরি পেয়েছেন। পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার সময় ব্রির মহাপরিচালক ড. খালেকুজ্জামান অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন। এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্রি কর্তৃপক্ষ নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় সুজা মিয়া নামের একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন জালিয়াতির ঘটনায় কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।