উত্তরায় গৃহকর্মীর ফাঁদে স্ত্রীর মৃত্যু স্বামী চিকিৎসাধীন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় বাসায় কাজের লোক রাখার তিন দিনের মাথায় গৃহকর্মীর দেয়া চেতনানাশক মেশানো চা খেয়ে আয়েশা আক্তার (৬২) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। তার স্বামী আনোয়ার হোসেন (৬৮) গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দম্পতিকে অচেতন করে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে ওই গৃহকর্মী পালিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। মঙ্গলবার রাতে উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাসাটিতে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীর সাথে ছেলে ও ছেলের বউ থাকতেন। ঘটনার সময় তারা বাসায় না থাকার সুযোগটিই নিয়েছে ওই গৃহকর্মী। দুই দিন আগে বাসার তত্ত্বাবধানকারীর মাধ্যমে মারুফা নামের এক গৃহকর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয়। ছেলে বেড়াতে যাওয়ায় তারা শুধু দু’জনই বাসায় ছিলেন। তবে গৃহকর্মীর কোনো পরিচয় বা ঠিকানা পাওয়া যায়নি। কোনো আইডি কার্ড বা ফোন নম্বর রাখা হয়নি।

ভবনের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম জানান, ভবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে রবিন নামের এক তরুণ, যে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ফ্ল্যাট মালিক আনোয়ার হোসেন তাকে একটি ‘কাজের বুয়া’র ব্যবস্থা করে দিতে বলেছিলেন। রবিন রাস্তা থেকে ওই নারীকে পেয়ে মালিকের কাছে নিয়ে যায় এবং মালিক নিজেই কথাবার্তা বলে তাকে কাজে নিয়োগ দেন।

পুলিশ জানায়, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে আনোয়ার হোসেন ও আয়েশা আক্তার দম্পতি তাদের সন্তানসহ বসবাস করেন। গত মঙ্গলবার রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে দু’জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক আয়েশা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ ওসি কাজী রফিক আহমেদ জানান, ভবনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রবিনের মাধ্যমে তিন দিন আগে ওই গৃহকর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে গৃহকর্মী তাদের চায়ের সাথে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে পালিয়ে যায়। ওই সময় দম্পতির ছেলে ও তার স্ত্রী এক অনুষ্ঠানের কারণে মিরপুরে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, নিহত দম্পত্তির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। গৃহকর্মীকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেফতার করা গেলে ঘটনার মূল রহস্য জানা যাবে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।