লবণ আমদানির খবরে দিশেহারা কক্সবাজার উপকূলের চাষিরা, মাঠ ফাঁকা

Printed Edition
bangla-7
কক্সবাজারের উপকূলে ফাঁকা লবণের মাঠ : নয়া দিগন্ত

রফিক আহমদ, চকরিয়া (কক্সবাজার)

চলতি লবণ উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সিদ্ধান্তের খবরে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার লবণচাষি ও শ্রমিক চরম হতাশা ও উদ্বেগে পড়েছেন। আমদানির আশঙ্কায় চকরিয়ার ইলিশিয়া, বারোয়াখালীসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় এখনো বেশির ভাগ লবণের মাঠ খালি পড়ে আছে।

লবণচাষিদের অভিযোগ, লবণ মিল মালিক ও সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের প্রভাবে শিল্প-কারখানার নামে বন্ড সুবিধায় বিদেশী লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এর আগের মৌসুমেও আমদানিকৃত লবণ বাজারে ছাড়ায় দেশীয় লবণের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। এতে উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চাষিরা ঋণের বোঝায় পড়েন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মৌসুম শুরু হলেও চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বহু লবণ মাঠে এখনো উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়নি। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি বা নভেম্বরের শুরুতেই এসব এলাকায় লবণ উৎপাদন শুরু হয়। তবে আমদানির খবরে চাষিরা ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না।

কক্সবাজার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী বলেন, ‘গত মৌসুমের চার লাখ মেট্রিক টনের বেশি লবণ এখনো মাঠে মজুদ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে এক লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানির পরিকল্পনা চাষীদের জন্য আত্মঘাতী।’ তিনি জানান, ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা না থাকায় চাষিরা উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে দেশে লবণের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন, উৎপাদন হয় ২২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন। আগের মৌসুমে উৎপাদন ছিল ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণের পরও প্রায় চার লাখ টনের বেশি লবণ মাঠে অবিক্রীত রয়ে গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চকরিয়ার বদরখালীর লবণ ব্যবসায়ী নেতা নবী হোসেন বলেন, এক মণ লবণ উৎপাদনে খরচ পড়ে ৩০০ টাকার বেশি, অথচ বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়। এতে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশীয় লবণ শিল্প বিলুপ্তির মুখে পড়বে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়বে।

বিসিকের তথ্যমতে, কক্সবাজারের সাত উপজেলায় দেশের মোট লবণের প্রায় ৮৭ শতাংশ উৎপাদিত হয়। জেলার ৫৯ হাজার ৯৯৯ একর জমি ও পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রামের কিছু অংশ মিলিয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে লবণ চাষ হয়ে থাকে।

চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে লবণ আমদানির পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে। একই সাথে স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে লবণ সংগ্রহ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বাজারব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।