পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন

রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা অস্থিতিশীল করতে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করার চক্রান্ত চলছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া পোস্ট তৈরি করে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে, যাতে পুলিশ সদস্যরা নতুন উদ্যমে কাজ করতে না পারেন এবং বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই কথা বলা হয়েছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার ও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সম্প্রতি একটি চক্র বা গোষ্ঠী এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া পোস্ট তৈরি করে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী নতুন উদ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাহিনীর কার্যক্রম, জনসেবা ও পেশাদারিত্ব আরো জোরদার করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই সময় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ব্যাপক অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে পুলিশ সদস্যরা নতুন উদ্যমে কাজ করতে না পারেন এবং বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দিতে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বৈষম্যের শিকার যেসব দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন তারাই বেশি এই অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন।

আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অপপ্রচার কেবল ব্যক্তিগত সুনামহানির উদ্দেশ্যে নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা দুর্বল করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে মিথ্যা, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

‘বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সাথে অ্যাসোসিয়েশন বিশ^াস করে, এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিয়ে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্য পেশাদারিত্বের সাথে আইন প্রয়োগে আরো কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।