আগডুম বাগডুম কবিতা গুলি
Printed Edition
পর্যটক
মুজতাহিদ ফারুকী
ঘর ছিল তার হাবড়া নাকি বজবজে
থাকত নিজের মস্ত মডার্ন পশ লজে
বিদ্যা না থাক বুদ্ধি চিকন মগজে
ফলাও হলো দেশসেরা সব কাগজে।
বিশ্ব ঘোরার প্ল্যান ছিল তার হর দমে
উঠল প্লেনে হঠাৎ ঢুকে দমদমে
বলল, চলো যেথায় তারার হাট জমে।
পাইলটে কয়, ফেললে এ কোন বিভ্রমে
ডেস্টিনেশন নেই তো ট্রাফিক নামক্রমে।
কন তিনি, নেই বটে ঠিক বিশ্বহাবাদের ভ্রমে
লগিন কর ‘হটমাথাকিংডটকমে।’
কাঁপছে শীতে বাংলাদেশ
এইচ এস সরোয়ারদী
কাঁপছে শীতে বাংলাদেশ
শীত যে বড় খাঁটি
উদোম গায়ে কাঁপছে নদী
কাঁপছে ভিটে-মাটি।
কাঁপছে ধান, কাঁপছে পান
কাঁপছে পাখিগুলো
কুয়াশা ভেজা রাঙা প্রাতে
কাঁপছে কাদা ধুলো।
কাঁপছে ভাপা-খেজুর রস
কাঁপছে রাতের তারা
কাঁপছে শীতে পথের মানুষ
ভীষণ গরিব যারা।
তোমার গল্প তোমার সাহস
আলমগীর কবির
আলোকের খোঁজে সকলে ছুটছে
তুমি কেন রবে পিছিয়ে?
পথে নেমে দেখো সফলতা তার চাদর রেখেছে বিছিয়ে!
বাধা যদি আসে দলবল বেঁধে
সাহস ফেল না হারিয়ে,
জেনে নিতে হবে কোন পথে আলো
দৃষ্টি সীমানা ছাড়িয়ে!
হৃদয়ে তুমি কি ধারণ করেছো মাতৃভূমির মায়াকে?
ঢেউয়ের মতো বাঁধ ভেঙে যাও মাড়িয়ে বাধার ছায়াকে।
মিথ্যা কিন্তু পায় চিরদিন
ভয় সত্যের আলোকে,
কত বিস্ময় আছে খুঁজে নাও তোমার রঙিন পালকে!
ফিরবে না বাড়ি জয় করে সব
মুঠো মুঠো আলো না নিয়ে,
তোমার গল্প তোমার সাহস
সবাইকে দাও জানিয়ে!
বই উৎসবে মেতে
কামরুজ্জামান দিশারি
হাতে হাতে বই পেল যেই
কচি-কাঁচার দল
বিদ্যালয়ে নেমে এলো
অমনি কোলাহল!
বইগুলোকে হাতে ধরে
জানায় সমস্বরে
জ্ঞানের আলোর এই যে প্রদীপ
আমরা আছি ধরে!
ঘরে নিয়ে করবে মলাট
কাগজ দিয়ে মুড়ে
গন্ধ শুঁকে চোখ বুলাবে
মন হবে ফুরফুরে।
বই উৎসবে মেতে ওরা
যায় যে হয়ে ধন্য
সোনার বাংলার সোনার মানুষ
গড়ে ওঠার জন্য।
খোকা সোনা
এরশাদ জাহান
সোনারঙ কুঁকড়ানো শাবাবের চুল
গোলগাল মুখ যেন শেফালির ফুল
চোখ যেন সূর্য ও কখনোবা চাঁদ
হাসিখুশি ঝলমলে সোনা সে নিখাদ।
ঠোঁট দুটো তোতাদের টুকটুক লাল
সেই ঠোঁটে ডাকাডাকি সকাল-বিকাল
ডাকে কী যে মধু ঝরে টুপটাপ টুপ!
অভিমানী হলে থাকে একদম চুপ।
এই থাকে শান্ত তো এই চুল-বুল
ভাবসাব আইনস্টাইন, হিরো বুলবুল
এই সাজে মাস্টার, ডাক্তার ফের
মনে ওর সাত রঙ রামধনুকের।
এক দুই করে আয়ু তিন ছুঁই ছুঁই
খোকা সোনা বড় হয়ে যা-ই হোস তুই
দেশপ্রেম, সততায় জিয়া হোস আর
বিপ্লবী হাদি হোস, দাবি জনতার।
শীতের সকাল
আতিকুর রহমান
উত্তরে ওই হাওয়ায় নাচে
মাঠের সবুজ ঘাস
শিশির কণা নিয়ে এলো
মিষ্টি শীতের মাস।
গাছি ওঠে খেজুর গাছে
কোমরে বেঁধে রশি
মাটির হাঁড়ি ভরল রসে
দেখছে দাদা বসি।
চাষি ভাই সব লাঙল চালায়
ভোরবেলায় ওই মাঠে
সর্ষে ফুলের হলুদ হাসি
ছড়িয়ে পড়ে বাটে।
কলাই শাক আর আলুর ক্ষেতে
লাগল রঙের ছোঁয়া
শীতের ভোরে গ্রাম বাংলায়
ওঠে পিঠের ধোঁয়া।
মিষ্টি রোদে উঠোন জুড়ে
হাসছে খোকা খুকি
শীতের দিনে এমন আমেজ
পায় না যারা দুখী।
ইচিং বিচিং
আরিফ জামান
খুকি খেলে ইচিং বিচিং
ফড়িং নাচে তিড়িং বিড়িং
বিড়াল ধরে ইঁদুর খপাৎ
কোলা ব্যাঙে করে ঝপাৎ
পুকুর পাড়ে কেঁচো কিলবিল
ছোট্ট সোনা হেসেই খিলখিল।
শীতের তাৎপর্য
জোবায়ের রাজু
শীত লেগেছে সারা অঙ্গে কাঁপছি আমি খুব
আগের মতো দিঘির জলে ক্যামনে দেব ডুব!
দিঘির জলে পানকৌড়িরা অবাধ সাঁতার কাটে
নকশিকাঁথায় শরীর ডেকে ঘুমিয়ে থাকি রাতে।
ঘুম ভাঙে ভোরে মায়ের পিঠাপুলির ঘ্রাণে
তবু আমায় খেজুর রসের লোভ যে এত টানে
কুয়াশাদের সাদা রূপে দেখা যায় না দূর
দেখা যায় না বাড়ির পাশের ছোট্ট রসুলপুর।
শীতের দিনে অলসতায় মন দেয় না সায়
ইচ্ছে করে পালিয়ে যাই উষ্ণ সীমানায়
সবুজ পাতায় শিশিরবিন্দু জমে পড়ে থাকে
শীত পড়েছে আমার গাঁয়ের মেঠো পথের বাঁকে।