লজ্জার রেকর্ডে হার নারী ফুটবল দলের
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসর। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কোনো সুযোগই নেই। পরীক্ষার পর্ব শেষ হয়েছে চীনের দুই প্রস্তুতি ম্যাচেই। মূল আসলে সেরা একাদশই নামানোর নিয়ম। কিন্তু কোচ পিটার জেমস বাটলার সেই ভুলই করলেন উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ফিফা র্যাংকিংয়ে-১১-এ থাকা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কোচ একাদশে রাখেননি দেশ সেরা নারী ফুটবলার ও তারকা মিডফিল্ডার ঋতুপর্ণা চাকমাকে। শুরু থেকে সাইড বেঞ্চে ছিলেন মণিকা চাকমাও। একই কাতারে ছিলেন ছোট শামসুন্নাহার, বড় শামসুন্নাহার, শিউলী আজিমরা। এদের বদলে মৌমিতা খাতুন, অর্পিতা বিশ্বাস, আইরিনদের মাঠে নামান তিনি। ফলে নাগোয়া-আইচি এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে রেকর্ড ১০-০ গোলে হারতে হলো সাফের সাবেক দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের। পরে অবশ্য ঋতুপর্ণা ও মণিকাদের নামান কোচ। অবশ্য ততোক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে। অথচ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে এ বছরের শুরুতে এই উত্তর কোরিয়ার কাছে ০-৫ গোলে হেরেছিল আফঈদারা। এবার মারিয়ার মান্দার নেতৃত্বে গোলের সংখ্যা দ্বিগুণ হলো। ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পরের ম্যাচ দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে।
দুই কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ ভালো করতে পারবে না- এটা সবাই জানে। তবে প্রত্যাশা ছিল সম্মান জনক হারের। কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময় আগে যখন বাংলাদেশ ৮/৯ গোলে হারতো কোচ বাটলার ১৩ বছর পর নারী ফুটবলকে সেই পর্যায়ে নামালেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দল ২০১৩ সালে ০-৯ গোলে হেরেছিল থাইল্যান্ডের কাছে। এই ব্রিটিশ কোচ অবশ্য হারের পুরো নিজের কাঁধেই নিলেন। তিনি নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়ার কথা উল্লেখ করলেন ম্যাচোত্তার সংবাদ সম্মেলনে। জানান, ‘আমার দলে অনেক নতুন খেলোয়াড় আছে। আমার এই নতুনদের সুযোগ দেয়ার নীতি হয়তো অনেকেরই পছন্দ হবে না।’
এরপর তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে নাকি স্বীকৃত লিগ নেই। অথচ এই বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগ এএফসি স্বীকৃত। এই লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েই রাজশাহী স্টারস এএফসি নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলে এসেছে। একটি জয়ও পেয়েছে।
এরপর কোচের জবাব, উত্তর কোরিয়ার মতো খেলোয়াড়দের গতির সাথে খেলতে আমাদের মেয়েরা প্রস্তুত নয়। অবশ্য কোচ মনে করিয়ে দেন, ‘১-০ বা ১০-০ তে হার কোনো বিষয়ই নয়। আমাদের মূল ম্যাচ মিয়ানমারের সাথে।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশ যদি মিয়ানমারকে হারিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হতে পারে এবং তিন গ্রুপের তিনটি তৃতীয় হওয়া দলের মধ্যে সেরা তিন এ থাকতে পারে তাহলে নকআউট পর্বে যেতে পারবে। ওই অর্জন নারী ফুটবলে ইতিহাস গড়তেও সহায়তা করবে। গত এশিয়ান গেমসে প্রথম খেলার যোগ্যতা অর্জন করা বাংলাদেশ তখন একটি ড্রই করেছিল নেপালের সাথে। তবে তৃতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য গোলপার্থক্য অবশ্যই একটি বিষয়। কারন তৃতীয় হওয়া তিন দলের পয়েন্ট সমান হলে তখন বিবেচনায় আসবে গোল পার্থক্য। কাল এই জাপানের মাঠে হজম করা এই ১০ গোল অবশ্যই তখন বেকায়দায় ফেলকে মিলি আক্তার, তহুরা খাতুন, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীদের।
জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ৫ মিনিটে গোলের শুরু উত্তর কোরিয়ার। এরপর ৪৩ মিনিটের মধ্যে সপ্তম গোল। বিরতির পর অবশ্য তিনটি গোল দিয়েছে কোরিয়া। প্রথমার্ধে সাত গোল দেয়া একটি দল বিরতির পর গা ছাড়া ভাব দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ কোচ বাটলারের মতে, বিরতির পর বাংলাদেশ দল ভালো খেলেছে। এশিয়ান গেমসের ফুটবলে ছয়বার ফাইনাল খেলে তিনবার স্বর্ণ জিতেছে উত্তর কোরিয়া। এবার তারা এই বড় জয়ে আবারও স্বর্ণ জয়ের বার্তাই দিলো।