ইতিহাসের গতিপথে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন আপাতদৃষ্টিতে সীমিত একটি দাবি বৃহত্তর জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়। চব্বিশের জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমনই এক উদাহরণ। সরকারি চাকরিতে কোটা-ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনা, জবাবদিহি, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে সর্বজনীন গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের পরিণতিতে যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা ঘটে, তা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করে।

তবে এ আন্দোলনের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবনে কেবল ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনাই যথেষ্ট নয়। এর সামাজিক, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণও জরুরি। কেন একটি কোটা সংস্কার আন্দোলন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হলো? কেন শিক্ষার্থীদের সাথে অভিভাবক, শিক্ষক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকের বৃহৎ অংশ একাত্মতা প্রকাশ করলেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরে লুকিয়ে আছে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য।

বাংলাদেশে কোটা-ব্যবস্থা নতুন নয়। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, নারী এবং প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা চালু করা হয়েছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘদিনের বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রের মূলধারায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এ ব্যবস্থার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ব্যবহার, এর সম্প্রসারণ এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সমাজে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর সরকার কোটা-ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দিলেও পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। ২০২৪ সালে সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারো অসন্তোষ তৈরি হয়।

শুরুতে আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা; কিন্তু আন্দোলনকারীদের প্রতি কঠোর অবস্থান, সহিংসতা, প্রাণহানি এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়। তখন আর আন্দোলনের প্রশ্ন শুধু কোটা ছিল না; তা পরিণত হয় ন্যায়বিচার, নাগরিক অধিকার, জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবিতে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাষ্ট্র যখন জনগণের শান্তিপূর্ণ দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়, তখন ক্ষোভের বিস্তার অনিবার্য হয়ে ওঠে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো চব্বিশের ঘটনাপ্রবাহও একই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়।

কোনো গণ-আন্দোলন কেবল একটি দাবি ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী হয় না; এর পেছনে থাকে সমাজের গভীরে জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছিল। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে সাধারণ মানুষ নিজেদের দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রতিফলন দেখতে শুরু করেন।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়েছিলেন। তাদের মূল দাবি ছিল মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা। কোটা-ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি গ্রহণযোগ্য ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান; কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয় যখন আন্দোলন দমন করতে বলপ্রয়োগ, গ্রেফতার, মামলা এবং সহিংসতার আশ্রয় নেয়া হয়। প্রাণহানির ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তখন আন্দোলনের চরিত্র আমূল বদলে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে কলেজ, স্কুল, শহর ও জেলাপর্যায়ে। শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিককর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আন্দোলনের বিস্তার, তথ্যের আদান-প্রদান ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক তথ্যপ্রবাহের বাইরে বিকল্প তথ্যের বিস্তার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে এবং আন্দোলন আরো বেগবান করে।

ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, যখন রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়, তখন একটি নির্দিষ্ট ইস্যু বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নের প্রতীকে পরিণত হয়। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তাই ঘটে। আন্দোলন কার্যত গণ-অভ্যুত্থানের রূপ লাভ করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, এটি আর কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়; এটি জাতীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা ও ক্ষোভ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়।

তবে ইতিহাসের শিক্ষা হলো, একটি গণ-অভ্যুত্থানের সাফল্য শুধু সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেই আন্দোলনের মাধ্যমে কতটা টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা যায় তার ওপর। আন্দোলনের শক্তিকে যদি কার্যকর সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারে রূপান্তর করা না যায়, তবে জনগণের প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মূল্যায়ন করতে হলে কেবল তার তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ফল নয়; বরং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব— রাষ্ট্র, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা অপরিহার্য।

দুই.

গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতি এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সঙ্ঘাতের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এই সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা ছিল দ্বিমুখী। এক দিকে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অন্য দিকে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য কাজটি সহজ ছিল না। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা অনেকটা ক্ষয়প্রাপ্ত ছিল। ফলে কেবল নির্বাচন আয়োজন করা যথেষ্ট ছিল না; বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন ছিল আরো বড় চ্যালেঞ্জ।

এ বাস্তবতায় রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্ন সামনে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞ মহল রাষ্ট্র সংস্কারের নানা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের কার্যকর নিরপেক্ষতা, সংসদের জবাবদিহি, প্রশাসনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। দীর্ঘকাল পর রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো নিয়ে বিস্তৃত জাতীয় সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অনেক রাজনৈতিক দল নীতিগতভাবে সংস্কারের প্রতি সমর্থন জানালেও বাস্তব রাজনীতিতে মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্ষমতার প্রশ্ন যত সামনে এসেছে, সংস্কারের গতি তত জটিল হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা নতুন নয়; বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুবার তা প্রত্যক্ষ করা গেছে।

এখানেই জুলাই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা নিহিত। জনগণ শুধু সরকার পরিবর্তনে রাজপথে নামেননি; তারা এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছেন যেখানে নির্বাচন নিয়ে বারবার সঙ্কট সৃষ্টি হবে না, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা গণতন্ত্রকে দুর্বল করবে না এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি বা দলের পরিবর্তে সংবিধান ও আইনের প্রতি অনুগত থাকবে।

ইতিহাসের বিচারে গণ-অভ্যুত্থান কখনো শেষ কথা নয়; বরং সেটি একটি নতুন যাত্রার সূচনা। সেই যাত্রা সফল হয় তখন, যখন বিপ্লবের আবেগকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে রূপ দেয়া যায়। অন্যথায় জনগণের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

তিন.

বাংলাদেশ আজ সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জুলাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে; কিন্তু এ অধ্যায়ের সফল সমাপ্তি নির্ভর করবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রজ্ঞা, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়ার ওপর। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনই করা সম্ভব নয়। ইতিহাস কোনো ঘটনাকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করে না; সময়ের ব্যবধানে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ও পরিণতি বিবেচনা করে ইতিহাস রায় দেয়। তবু এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, এ অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এটি প্রমাণ করেছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা যায় না। রাষ্ট্রের বৈধতা শেষ পর্যন্ত জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তবে একটি মৌলিক সত্যও আমাদের মনে রাখতে হবে। সরকার পরিবর্তন কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার শেষ ধাপ নয়; এটি নতুন সূচনমাত্র। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচননির্ভর ব্যবস্থা নয়। এর ভিত্তি হলো আইনের শাসন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, কার্যকর সংসদ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ ভিত্তিগুলো সুসংহত করা না গেলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

জুলাই অভ্যুত্থানের একটি বড় অর্জন হলো, এটি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বহু দিন ধরে যে বিষয়গুলো রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে চাপা ছিল, সেগুলো এখন জনপরিসরে আলোচিত হচ্ছে। নির্বাচনব্যবস্থা, ক্ষমতার ভারসাম্য, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এখন আর সীমিত পরিসরের আলোচনা নয়; এগুলো জাতীয় এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। এ পরিবর্তনকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই।

অন্য দিকে অপূর্ণতার দিকও কম নয়। রাজনৈতিক মেরুকরণ এখনো গভীর। সংস্কারের গতি নিয়ে মতভেদ আছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে আস্থার ঘাটতি দূর হয়নি। জনগণের প্রত্যাশা অত্যন্ত উচ্চ। সেই প্রত্যাশা পূরণে সময়, ধৈর্য এবং সর্বদলীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া বড় ধরনের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কখনো স্থায়ী হয় না। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো— গণ-অভ্যুত্থানের আবেগকে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপান্তর করা। প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে পুনর্মিলনের রাজনীতি, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং ক্ষমতার একচেটিয়াকরণের পরিবর্তে সাংবিধানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই হতে পারে আগামী বাংলাদেশের পথনির্দেশ।

জুলাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। তরুণ প্রজন্ম কেবল ভবিষ্যতের নাগরিক নয়; তারা বর্তমানেরও রাজনৈতিক অংশীদার। তাদের প্রত্যাশা, অংশগ্রহণ এবং মতপ্রকাশকে গুরুত্ব না দিলে কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকতে পারে না।

বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিক ঘটনাগুলো আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তির উৎস। যখন জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রের নীতির মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়, তখন পরিবর্তনের দাবিও দুর্বার হয়ে ওঠে।

জুলাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান তার একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক; কিন্তু এর প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কতটা গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে, তার ওপর। ইতিহাস আমাদের সামনে সুযোগ এনে দিয়েছে; সেই সুযোগকে জাতীয় অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার দায়িত্ব এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা ও সর্বস্তরের সচেতন জনগণের।

লেখক : ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ নেশনের উপদেষ্টা সম্পাদক