ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
দুই পোস্টের নিচে দুই গোলরক্ষক। আইএম-১০-এর শেষ প্রহরী স্বপ্না আক্তার ঝিলি। বিপরীতে বাংলাদেশ আর্মির কিপার বর্ষা মিষ্টি। পরশু রাতে মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে নারী ফুটসাল লিগের ফাইনালে লড়াইটা বেশ জমজমাট ছিল এই দুই গোলরক্ষকের। টুর্নামেন্ট শেষে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ময়মনসিংহের মেয়ে ঝিলি। তবে যদি শুধু ফাইনালের সেরা কিপারের পুরস্কার দেয়া হলো তাহলে অবশ্যই তা যেত বর্ষার দখলে। বরিশালের এই মেয়ে পোস্টের নিচে এতটাই দুর্বার ছিলেন যেকোনোভাবেই গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, সুমাইয়া মাতসুশিমারা। বর্ষার প্রবল প্রতিরোধে উজ্জীবিত হালিমা খাতুন, জয়নব বিনি রিতা, নওশন জাহান নিতিরা উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে ২-০তে লিডও নিয়ে নেয়। যে সেনাবাহিনী ফাইনালে ওঠার কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে ১০-১ গোলে হেরেছিল আইএম টেনের কাছে তাদের এই ২ গোলে এগিয়ে যাওয়া ছিল অপ্রত্যাশিত। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সাবিনা. মাছুরা, নীলাদের অভিজ্ঞতার কাছে টিকতে পারেনি সেনাবাহিনী। ৫-৩-এ ম্যাচ জিতে প্রথম নারী ফুটসালের শিরোপা ঘরে নিয়েছে আইএম-১০। লিগে ডাবল জেতা হয়েছে আইএম-১০। তারা পুরুষ বিভাগে ফকির এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই ট্রফিও জয় করেছে।
ঝিলি বাংলাদেশের ফুটবলে পরিচিত মুখ। শুরু পরিচিত বললে ভুল হবে। খ্যাপের ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা। বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলে ডাক পাওয়া এই কিপার সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের সদস্য। মূল জাতীয় দলে তার কখনও খেলা না হলেও সাফ ফুটসালে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জয় করেছেন। তবে পরশুর ফাইনালে নিজের পারফরম্যান্সের উপর সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি। যা ম্যাচ শেষেই স্বীকার করলেন। ঝিলি হলেন বাংলাদেশের প্রথম গোলরক্ষক যিনি কোনো ধরনের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলার আগে সরাসরি সিনিয়র জাতীয় দলে ডাক পান। এরপর বাদও পড়েছেন। পরে ফুটসাল জাতীয় দলের ভরসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জানান, ‘আমি এখনো স্বপ্ন দেখি ৯০ মিনিটের ম্যাচের মূল জাতীয় দলে খেলার। সেই চেষ্টাও করছি। ফুটসালের পারফরম্যান্স সে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।’
ঝিলির মতো মোটেই পরিচিত নন বর্ষা। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি নেয়া এই দীর্ঘদেহী কিপার এবারই বাফুফের স্বীকৃত কোনো আসরে খেললেন। অবশ্য ইনজুরি তাকে সব ম্যাচ খেলতে দেয়নি। আইএম-১০ এর বিপক্ষে ১০ গোলে হারের ম্যাচেও ছিলেন না ইনজুরির জন্য। তার মতো আরো কয়েকজন ইনজুরিতে ছিলেন সেনাবাহিনী আগের ম্যাচে। ফাইনাল শেষে বর্ষা জানান, ‘আমি ছিলাম দলের শেষ ভরসা। পোস্টের নিচে শেষ প্রহরী। আমি যদি ছেড়ে দেয় তাহলে টিম হেরে যাবে। তাই সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করেছি। এর পরও জিততে না পারার কারনে কান্না আর ধরে রাখতে পারিনি।’ যোগ করেন, সাবিনা আপুরা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো খেলোয়াড়। উনারা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছেন। তাই দুই গোলে লিড নিয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি।’
সেনাবাহিনীর গোলরক্ষক মিলি আক্তার বাংলাদেশ দলের নিয়মিত কিপার। সেই সেনাবাহিনীরই কিপার বর্ষা। তাই বর্ষাও স্বপ্ন দেখেন মিলির মতো লাল-সবুজ জার্সি গায়ে মাঠে নামতে। দেশকে সাফল্য এনে দিতে। জানান, মিলি আমারদের আর্মি দলের খেলোয়াড়। তার কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। তাই আমি যেমন ঝিলির মতো যেমন ফুটসাল জাতীয় দলে খেলতে চাই তেমনি মিলির মতোও মূল জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।
আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হয়েছেন আইএম-১০-এর সাবিনা খাতুন ও সেনাবাহিনীর নওশন জাহান নিতি। ফাইনালে নিতি করেছেন হ্যাটট্রিক। সাবিনা এই লিগ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ দেন বাফুফে এবং ফুটসাল কমিটিকে। তার মতে, সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসার পরপরই এই লিগ আয়োজন করে বাফুফে আমাদের চমকে দিয়েছে।