মাদকের ছোবলে দেশের তরুণ সমাজ আক্রান্ত। সীমান্তের ওপার থেকে তাদের লক্ষ্য করে মাদকের কারখানা ও ব্যবসায় চালিত হয়। এক ঢিলে তারা দুই পাখি শিকার করে। উৎপাদনে অক্ষম প্রতিবন্ধী প্রজন্ম তৈরি করে দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চায়। এ সুযোগে ব্যবসায়ও করে। স্বাধীনতার পর থেকে ভারত সীমান্তে এর ক্রমাগত অনুপ্রবেশ দেখা গেছে। এখন যুক্ত হয়েছে মিয়ানমার। তরুণদের নিশানা করে সারা দেশে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলেও এখন মাদক সব বয়সীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি জেলায় কিছু স্পট মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ। সেখানে মাদক বেচাকেনা ও সেবন করা হয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলেও তা বন্ধ হয় না।
সহযোগী একটি দৈনিকের খবর, জেলার সদরপুর উপজেলার একটি স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা বেচাকেনা ও সেবন চলছে। উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের ওই মাদক স্পটটি ‘ইয়াবা বাজার’ হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছে। একটি রাস্তার ২০০ মিটার এলাকা সন্ধ্যা নামলে সরগরম হয়ে ওঠে মাদক বাজার। সেটি মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনায় ভরে যায়। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহনে স্পটে হাজির হয় মাদকের ক্রেতা ও কারবারিরা। অপরিচিত লোকদের জটলা স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। তারা এ সময় নিরাপত্তা সঙ্কটে ভোগেন। ফরিদপুর জেলার আরো বেশ কিছু মাদকের স্পটের কথা জানা যায়। পদ্মা তীরবর্তী ‘সি অ্যান্ড বি ঘাট’-এর অন্যতম। স্থানীয় জনগণ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষ তাদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনাও ঘটিয়েছেন। ভাটিলক্ষ্মীপুর, টেপাখোলাসহ বেশ কিছু স্পটে ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজ কেনাবেচার খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময় এসব স্পট থেকে মাদক উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও ঘটে। প্রকাশ্যে মাদক কারবার ও সেবনের ঘটনা ঘটলেও এগুলো নির্মূল করা যায় না।
শুধু ফরিদপুর নয়, সারা দেশে মাদকের শত শত স্পট আছে। এগুলো ঘিরে মাদক চক্রের প্রভাব এতটাই যে, বিষয়টি সবাই জানলেও ব্যবস্থা নেয়া যায় না। সরকার পরিবর্তন হয়; কিন্তু মাদক স্পটগুলো আগের মতো থেকে যায়। যেমন— খোদ রাজধানী ঢাকায় আড়াই শ’র মতো মাদক স্পট। এসব স্পটে ইয়াবা, আইস, হেরোইন ও ফেনসিডিলসহ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মাদক কেনাবেচা হয় অনেকটা প্রকাশ্যে। দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনের নাকের ডগায় তা ঘটতে পারছে বছরের পর বছর। দেশের আটটি মেগা সিটিতে বড় মাদকের কারবার আছে। এগুলো সবচেয়ে বড় ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেও ব্যবহার হয়।
দেশের সীমান্তবর্তী ১৮টি জেলার ১০৫টি পয়েন্ট দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এমনকি সাধারণ মানুষ সবাই এগুলো জানেন। আবার মাদকবিরোধী বহু বড় বড় অভিযান দেখা যায়। কার্যত সেগুলো যে লোক দেখানো পরে তা প্রমাণিত হয়।
মাদক চোরাকারবারিরা প্রশাসনের চেয়েও শক্তিশালী ক্ষেত্রবিশেষে, সে কারণে মাদক কেনাবেচা ও চোরাচালান বন্ধ করা যায় না। এ নিয়ে সরকার ও নাগরিক সমাজের গভীর ভাবনার প্রয়োজন আছে। তারা এই ধরনের জাতিবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড এভাবে আর কতকাল চলতে দেবেন।