রমজানে মনোযোগের কয়েকটি বিষয়

Printed Edition
first-3
রমজানে মনোযোগের কয়েকটি বিষয়

লিয়াকত আলী

আজ মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিবস। মাহে রমজান রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির আলোকিত যাত্রার সূচনা বিন্দু। রমজান কল্যাণ ও বরকত, রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মহান মাস, যাকে আল্লাহ তায়ালা অন্যান্য সব মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এটি এমন একটি পবিত্র ও বরকতময় মাস যেখানে পৃথিবী ও আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয়, হৃদয়ের পতিত ভূমি সেচ করা হয় এবং মানুষ তার প্রভুর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ খুঁজে পায়। এই মাসটির দিনগুলো ইবাদতে পরিণত হয় এবং রাতগুলো আলো, শান্তি ও মহত্ত্বে ভরে ওঠে। পবিত্র কুরআনে এই মাসের মাহাত্ম্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে: ‘রমজান সেই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পথনির্দেশনা এবং ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যের স্পষ্ট প্রমাণ।’ আয়াতটি এই সত্যটি প্রকাশ করে যে রমজান কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাস নয়, বরং পথনির্দেশনা, সংস্কার ও আধ্যাত্মিক জাগরণের একটি মওসুম। এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল, যা মানবতাকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে গিয়েছিল। অতএব, এই মাসে কুরআনের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করা, এর তেলাওয়াত, মর্মোপলব্ধি ও পরিপালনকে জীবনের অংশ করে তোলাকে সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রমজান মাসে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. প্রথমত বান্দার উচিত এই দোয়া করা যে, আল্লাহ তায়ালা এই বরকতময় মাসে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দান করুন, সৎকর্ম করার ক্ষমতা দান করুন এবং আমলগুলো কবুল করুন।

২. দ্বিতীয়ত, আন্তরিকভাবে তওবা করা উচিত, যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়। কারণ যখন আল্লাহ সন্তুষ্ট হন, তখন সৎকর্মের সাফল্য, সাহস ও আন্তরিকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে। আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় খুবই খুশি হন। তাই মহানবী সা: বলেছেন : আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যে মরুভূমিতে তার বাহন হারিয়ে হঠাৎ করে তা খুঁজে পায় (সহীহ মুসলিম)

৩. তৃতীয়ত রমজানের প্রস্তুতি নেক আমলে কঠোর পরিশ্রম করার দৃঢ় ও আন্তরিক নিয়তের সাথে করা উচিত। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরে সৎ নিয়ত দেখেন, তাহলে তিনি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম দান করবেন এবং তোমাদের পাপ ক্ষমা করে দেবেন (সূরা আনফাল: ৭০)

রমজান মাসের আসল সাফল্য হলো এই মাসে সৎকর্মে সফল হওয়া। এ জন্যই বান্দার উচিত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মু’আয ইবনে জাবাল (রা:) কে যে দোয়া শিখিয়েছিলেন তা ঘন ঘন পাঠ করা : হে আল্লাহ! তোমাকে স্মরণ করতে, তোমার কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং তোমার ভালোভাবে ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করো।

৪. চতুর্থত পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, মুখস্থ, পর্যালোচনা ও কুরআন নিয়ে ধ্যানের মাধ্যমে কাটানো। কারণ এই মাস কুরআনের মাস। রমজান মাসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম হজরত জিব্রাইল (আ:)-এর সাথে কুরআন তেলাওয়াত করতেন এবং যে বছর আল্লাহর রাসূলের ইন্তেকাল হয়েছিল, সেই বছর তিনি দুবার পুরো কুরআন তেলাওয়াত করেছিলেন।

৫. পঞ্চমত ঘন ঘন দোয়া করা। কারণ দোয়া এমন একটি কাজ যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইবাদতের উপায় প্রদান করেন, সময়ে বরকত দেন এবং বান্দাকে বিভিন্ন সৎকর্মে নিয়োজিত করেন।

৬. ষষ্ঠত খেলাধুলা, অশ্লীলতা ও অপবিত্রতা সম্পর্কিত অনুষ্ঠান থেকে নিজেকে রক্ষা করা। কারণ সাহরি ও ইফতারের সময় দোয়া কবুলের জন্য বিশেষ সময়। এই সময় নষ্ট করা বা বিভিন্ন খেলায় নিজেকে নিয়োজিত করা বিরাট বঞ্চনার বিষয়।

৭. সপ্তমত নিজের সারা দিনের সময়সূচি এমনভাবে সাজানো যাতে রমজানে প্রতিদিন নিয়মিত ইবাদতের জন্য সময় বের করা যায়। সময়সূচি ছাড়া ইবাদতের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৮. অষ্টমত নফল ইবাদত ও দান-খয়রাতের পরিমাণ ও মাত্রা সাধ্য অনুযায়ী বাড়িয়ে দেয়া। যেহেতু রমজানে প্রতিটি নেককাজের প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তাই যতটা সম্ভব নফল ইবাদত ও দান সদকা বাড়িয়ে দেয়া উচিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের রমজান মাসের বরকত দ্বারা পূর্ণভাবে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুন।