ফটিকছড়িতে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বাড়িঘর ভাঙচুর, আহত ৮
Printed Edition
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার ভুজপুর, দাঁতমারা, পাইন্দং ও বাগানবাজার ইউনিয়নে পৃথক চারটি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নারীসহ অন্তত আটজন গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতাকর্মী এসব হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের কাউকে না পেলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। দাঁতমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ভুজপুর থানার মাত্র চার-পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে একের পর এক ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সহিংসতার সূত্রপাত হয় ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে। দাঁতমারা ইউনিয়নের পূর্ব সোনাইছড়ি এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নারী ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রিকশা সরবরাহ করায় শেখ ফরিদ নামে এক যুবককে স্থানীয় একটি দোকান থেকে তুলে নিয়ে পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি কর্মী ইয়াকুব বাদশা, শাহ আলম, আফছার ও রাশেদসহ আরো কয়েকজনকে দায়ী করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি একই ইউনিয়নের দাওয়াতের টিলা এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়ার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেয়াকে কেন্দ্র করে রোকেয়া ও নাছিমা নামে আপন দুই বোন হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভোটের কয়েকদিন আগেও তারা হেনস্থার শিকার হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই যুবদলের ১৫-২০ জনের একটি দল শিবির কর্মী গোলামুর রহমানের বাড়িতে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে দুই বোনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে তারা।
সর্বশেষ ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাইন্দং ইউনিয়নের বৃন্দাবনহাট এলাকায় রহিম কোম্পানি নামে এক ব্যক্তিকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। হামলার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো: তারেক আজিজ জানান, ফটিকছড়ি ও ভুজপুর এলাকায় কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তিনি আরো জানান, স্থানীয় ও দলীয় পর্যায়ে বিষয়গুলো মীমাংসার চেষ্টা চলছে।