শ্রমিকবান্ধব ও ইনসাফভিত্তিক দেশ গঠনে শ্রমিক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: শাহজাহান চৌধুরী

চট্টগ্রাম ব্যুরো
Printed Edition
3rd-3
চট্টগ্রামে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের র‌্যালি : নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সব গৌরবময় অর্জনে শ্রমিক-জনতার রয়েছে বিশাল অবদান। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শ্রমিকরাই সম্মুখযুদ্ধ করেছেন। জীবন দিয়েছেন। বুকের রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আমার ভাই উমর ফারুকসহ দুই শতাধিক শ্রমিক শাহাদতবরণ করেছেন। শ্রমিক-মেহনতি মানুষের জীবন, রক্ত ও ঘামে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। অতএব, শ্রমিকদের নাগরিক অধিকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পূরণ করতে হবে। শ্রমিকদের খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষার বন্দোবস্ত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হতে হবে শ্রমিকবান্ধব। শ্রমিকদের যথাযথ অধিকার প্রদানের মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আর শ্রমিকবান্ধব ও ইনসাফভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শ্রমিক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি গত বৃহস্পতিবার মে দিবসে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে চট্টগ্রাম পুরনো রেলস্টেশন চত্বরে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ ও র‌্যালিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমীন। ফেডারেশনের নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্য রাখেন জামায়াত মনোনীত চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের প্রার্থী ডা: এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ সফিউল আলম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী ডা: আবু নাছের, নগর ফেডারেশনের সহসভাপতি মকবুল আহমদ ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শিহাব উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার উপদেষ্টা মোস্তাক আহমদ ও নগর ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জুলাই আন্দোলনে আমার ভাই শ্রমিকনেতা উমর ফারুক হত্যার প্রধান আসামি হিসেবে ফ্যাসিবাদের জননী হাসিনার বিচার করতে হবে। কারণ জুলাইয়ের সব হত্যাকাণ্ড ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশেই হয়েছে। জুলাই গণহত্যায় জড়িত চট্টগ্রামের ফ্যাসিবাদের ধারকদের অবশ্যই বিচার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা শ্রমিক-মালিক ভেদাভেদে বিশ্বাসী নই। আমরা শ্রমিক-মালিক সঙ্ঘাত চাই না। কিন্তু তাই বলে শ্রমিকদের শোষণ করা হবে, সেটি আমরা হতে দেবো না। শ্রমিক-মালিক ভাই ভাই হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস প্রতি বছর আমাদের ডাক দিয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রতি বছর ব্যাপকভাবে এ দিনটি পালন করা হলেও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কোনো অগ্রগতি ঘটে না। বিশ্বের নানা প্রান্তে শ্রমিকরা আজও নিষ্পেষিত-নির্যাতিত হচ্ছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকরা অবাধে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত।

স্বৈরাচার সরকারের সময় শ্রম অধিদফতরের কর্তারা নানা ঠুনকো অজুহাত ও নানাবিধ শর্তেও বেড়াজালে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে দেয়নি। বিশেষত চট্টগ্রামে সে সময়ে যারা শ্রম অধিদফতরে নিয়োজিত ছিল, তারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আজকে দেশ নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। মানুষ মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। এ সময়ে এসে শ্রমিকরা যেন তাদের অধিকার আদায়ের সংগঠন অবাধভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সে জন্য চট্টগ্রাম শ্রম অধিদফতরের কর্তাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।