দেড় বছরের ব্যবধানে আবারো পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
পরিবর্তিত বাস্তবতায় এবং মাঠপর্যায়ের সদস্যদের তীব্র অসন্তোষের মুখে মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে আবারো আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নবনির্মিত ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’ উদ্বোধনের সময় আইজিপি আলী হোসেন ফকির ও ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদকে নতুন ইউনিফর্মে দেখা যায়, যা দেশজুড়ে এই নতুন পোশাক কার্যকর হওয়ার আনুষ্ঠানিক বার্তা দেয়। জেলাপর্যায়েও পর্যায়ক্রমে এই পোশাক সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দুই দশক পর পুলিশ বাহিনীতে পুনরায় খাকি প্যান্টের প্রচলন ফিরল। পুলিশ সদর দফতরের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা হালকা জলপাই (লাইট অলিভ) রঙের শার্ট এবং জেলা ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা গাঢ় নীল রঙের শার্ট পরিধান করবেন। তবে সব ইউনিটের জন্যই প্যান্টের রঙ হবে খাকি। এ ছাড়া শীতকালীন পোশাক হিসেবে আগের ‘লোহা-ধূসর’ বা আয়রন গ্রে জার্সির পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের জার্সি, কার্ডিগান ও জ্যাকেট ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নারী সদস্যদের ক্ষেত্রেও শাড়ির রঙে পরিবর্তন এনে গাঢ় নীল শাড়ি ও ইউনিটের ধরন অনুযায়ী নীল বা জলপাই ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে র্যাব, এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি এবং সিআইডির ইউনিফর্ম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছাত্র-জনতার ওপর বলপ্রয়োগের স্মৃতি মুছে ফেলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন এনেছিল। গত বছরের ২৫ নভেম্বর থেকে ‘লোহা-ধূসর’ বা আয়রন গ্রে রঙের শার্ট ও ‘কফি’ রঙের প্যান্ট চালু করা হয়। কিন্তু শুরু থেকেই এই পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ওই সিদ্ধান্তটি পুলিশ সদস্যদের মতামত না নিয়েই তড়িঘড়ি করে নেয়া হয়েছিল।
বিশেষ করে গরম ও আর্দ্রতার দেশে কফি রঙের প্যান্ট এবং লোহা-ধূসর শার্ট অত্যন্ত অসহনীয় ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৯৬ শতাংশেরও বেশি পুলিশ সদস্য নতুন ওই পোশাকের বিরোধিতা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, ওই কাপড়ে ঘাম শোষণ করার ক্ষমতা মানসম্মত ছিল না, যার ফলে দীর্ঘসময় দায়িত্ব পালন করা কষ্টকর হয়ে পড়ত এবং অনেকের হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হতো। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পোশাক নিয়ে বিদ্রƒপ হওয়ায় বাহিনীর মনোবলও ভেঙে পড়েছিল।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন ইউনিফর্মের কাপড় কিনতে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল, যা এখন কার্যত বৃথা গেল। এই বিপুল ব্যয়ের পর আবারো নতুন করে ইউনিফর্মের কাপড় সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে।