বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোই তাদের ভরসা

Printed Edition
bangla-1
মহিষাবান্দী গ্রামের ঘাঘট নদীর ওপর বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো : নয়া দিগন্ত

শামীম সরদার, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মহিষবান্দী পূর্বপাড়া যেন মানচিত্রে ছোট্ট একটি দ্বীপ। গ্রামের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীর ভাঙনে এখন অর্ধশতাধিক পরিবার কার্যত নদীবন্দী। চলাচলের জন্য নেই কোনো পাকা রাস্তা। পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। সেই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো আর অন্যের কৃষিজমির আইল দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় তাদের।

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, ঘাঘটের ওপর বাঁশ ও দড়ি দিয়ে জোড়াতালি দেয়া একটি ভাঙাচোরা সাঁকো। সেটি দিয়েই শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ; সবাই ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। ওপারে নেমে নেই কোনো রাস্তা। প্রায় ৫০০ মিটার কৃষিজমির সরু আইল ধরে হেঁটে- তবেই পৌঁছাতে হয় মূল সড়কে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক যুগ ধরে শতাধিক পরিবার এখানে বসবাস করে আসছেন। অধিকাংশ পরিবারই নিম্নআয়ের। আগে বসতভিটার তিন পাশে নদী থাকলেও উত্তর পাশে ছিল স্থলভাগ। কিন্তু টানা ভাঙনে দুই বছর আগে সেই দিক দিয়েও নদী ঢুকে পড়ে। দক্ষিণ পাশের একটি অংশ এখন বড় খালে পরিণত হয়েছে। চারদিক দিয়ে পানি বেষ্টিত হওয়ায় গ্রামটি এখন কার্যত দ্বীপে রূপ নিয়েছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, সময়ের সাথে দেশ এগোলেও তাদের ভাগ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার রাস্তা ও সেতুর দাবি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়। নদীর পানি বাড়লে সাঁকো ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। তখন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

ফুল মিয়া ও ডিপটি মিয়া বলেন, প্রতিদিন জরুরি কাজে সাঁকো পার হতে হয়। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে আজিজার রহমান নামের এক ব্যক্তি সাঁকো থেকে পড়ে মারা গেছেন। দ্রুত একটি সেতু ও রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান তারা।

ওমর ফারুক নামে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী জানায়, সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে খুব ভয় লাগে। একদিন পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে নিয়মিত স্কুলে যেতে সাহস পায় না। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, রাতে বাড়ি ফিরতে হলে অন্ধকারে কৃষকের মাঠ পেরোতে হয়। এতে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতির কারণে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতেও সমস্যা হচ্ছে।

গ্রামবাসীর ভাষ্য, হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক।

রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে রাস্তা ও সেতু নির্মাণ প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি আবারো সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হবে। সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মেনাজ বলেন, ওই স্থানের সমস্যার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। গ্রামবাসীর দাবি, সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হোক।