ট্রাম্পের ভয়ে ভিসা-মাস্টারকার্ডের বিকল্প বানাচ্ছে ব্রিটেন

Printed Edition

দ্য গার্ডিয়ান

মার্কিন পেমেন্ট জায়ান্ট ভিসা ও মাস্টারকার্ডের বিকল্প হিসেবে একটি জাতীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা গঠনের চিন্তা করছে ব্রিটেন। এই লক্ষ্যে খুব শিগগির বৈঠকে বসতে চলেছেন স্থানীয় ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবিষ্যতে রাজনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বারক্লেসের প্রধান নির্বাহী ভিম মারু। সিটির একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান নতুন একটি পেমেন্ট কোম্পানি গঠনের ব্যয় বহন করবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতেও ব্রিটেনের অর্থনীতি সচল রাখা যায়।

সরকার-সমর্থিত কিন্তু সিটি-অর্থায়িত এই উদ্যোগ কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় ছিল। তবে ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানবিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ব্রিটেনের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অতিরিক্ত মার্কিন নির্ভরতা ব্রিটিশ পেমেন্ট ব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের পেমেন্ট সিস্টেমস রেগুলেটরের রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটির প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্ড লেনদেন ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। নগদ লেনদেন কমতে থাকায় এই নির্ভরতা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এক জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, যদি ভিসা ও মাস্টারকার্ড বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমরা ১৯৫০-এর দশকে ফিরে যাবো। আমাদের অবশ্যই একটি সার্বভৌম পেমেন্ট ব্যবস্থা দরকার। রাশিয়ায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ভিসা ও মাস্টারকার্ড সেবা বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষ অর্থ উত্তোলন ও কেনাকাটায় বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে। ব্রিটেনে অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলে বিপর্যয় ব্যাপক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থনৈতিক ও মুদ্রাবিষয়ক কমিটির চেয়ার অরোর লালুক সতর্ক করে বলেছেন, ‘ট্রাম্প চাইলে সব বন্ধ করে দিতে পারেন।’ তিনি ইউরোপীয় কমিশনকে পেমেন্ট সিস্টেমে ‘ইউরোপীয় এয়ারবাস’ গঠনের আহ্বান জানান।

ব্রিটেনের নতুন এই উদ্যোগে অর্থায়ন করবে ভিসা এবং মাস্টারকার্ডও। তাদের সাথে রয়েছে স্যান্টান্ডার ইউকে, ন্যাটওয়েস্ট, ন্যাশনওয়াইড, লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপ, লিংক এবং কভেন্ট্রি বিল্ডিং সোসাইটি। নতুন বিকল্প পেমেন্ট কাঠামোর নাম রাখা হয়েছে ‘ডেলিভারিকো’। সিটি বিনিয়োগকারীরা এর আইনি কাঠামো, নেতৃত্ব পরিকল্পনা ও অর্থায়ন মডেল নির্ধারণ করবে। অন্য দিকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নকশা তৈরি করে আগামী বছর হস্তান্তর করবে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পেমেন্ট ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হতে পারে।