গুজরাটে ৩ মসজিদ ও মাজারসহ ৩০ স্থাপনা ধ্বংস
Printed Edition
দ্য হিন্দুস্তান গ্যাজেট
ভারতের গুজরাট রাজ্যের কুচ জেলায় কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই তিনটি মসজিদ ও বেশ কয়েকটি মাজারসহ মোট ৩০টি স্থাপনা ভেঙে ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসনের এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানের পর তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ মুসলিম সংগঠন ‘জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ’।
এই বিশেষ অভিযানে মোট ৩০টি স্থায়ী অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১১টি ধর্মীয় উপাসনালয়, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দু’টি আবাসিক বাড়ি রয়েছে। একই সাথে একটি ভিডিওচিত্রেও ওই এলাকায় বুলডোজার দিয়ে মসজিদ ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখা গেছে। এই ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কুচ জেলা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতা মাওলানা হাকিমুদ্দিন কাসমী সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরনের আইনি নোটিশ বা পূর্বসতর্কবার্তা না দিয়েই শতবর্ষী মসজিদগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই অনাকাক্সিক্ষত উচ্ছেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
প্রশাসনের বুলডোজারে ধ্বংস হওয়া ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ‘জুনা কান্দলা মসজিদ’। মসজিদটির খাদেম জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়। সে সময় এই ভাঙচুরের প্রতিবাদ বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের গ্রেফতার ও আটক করার হুমকি দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৫ সাল থেকেই জুনা কান্দলা মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল। এর চমৎকার ও নান্দনিক নির্মাণশৈলীর কারণে এটি পুরো এলাকায় একটি সুপরিচিত ধর্মীয় এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সমাদৃত হতো।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সামার অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় তারা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার এবং মসজিদের দিকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং সেখানে যেতে দেয়নি। উল্টো তাদের চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। জানা গেছে, একই অভিযানে ওই জেলার আদিপুর এলাকার আরো একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ দিকে এই উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে এক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অবৈধ অবকাঠামো অপসারণের নিয়মিত অংশ হিসেবেই কুচ জেলার মোট ৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১১টি ধর্মীয়, ১৭টি বাণিজ্যিক ও দু’টি আবাসিক স্থাপনা রয়েছে।