বিদেশী কূটনীতিকদেরকে সিইসি
নির্বাচনে কোনো ধরনের লুকোচুরি থাকবে না
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে এবং কোনো ধরনের লুকোচুরির সুযোগ থাকবে না বলে বিদেশী কূটনীতিকদের আশ^স্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, তারা আস্থাশীল যে ইনশা আল্লাহ একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আমরা উপহার দিতে পারব, নিরাপদ পরিবেশে।
রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে গতকাল দুপুরে সংসদ ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী মিশন ও দূতাবাসে কর্মরত কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের থাকতে দেয়া হয়নি। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমেদ, মো: আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং জাতিসঙ্ঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি এ এম এম নাসির উদিন বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আমরা কী কী প্রস্তুতি নিয়েছি, প্রতিটি ধাপে কী কাজ করেছি সব কিছু বিস্তারিতভাবে তাদের (কূটনৈতিক) সামনে তুলে ধরেছি। আমরা প্রত্যেকটি পর্যায়ে আমাদের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে ব্রিফ করেছি। তারা এতে সন্তুষ্ট। তারা অত্যন্ত খুশি এবং আস্থাশীল যে আমরা একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব। তিনি বলেন, বিষয়টি কূটনীতিকদের কাছে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং তারা তা প্রশংসার সাথে গ্রহণ করেছেন।
কূটনীতিকদের প্রশ্ন প্রসঙ্গে সিইসি জানান, তারা মূলত পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। আমরা তাদের জানিয়েছি নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসারসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। ভোটাররা যেন নিরাপদ পরিবেশে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে নির্বিঘেœ ফিরে যেতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য মাঠপর্যায়ে যে ব্যবস্থা চালু আছে, সেটিও কূটনীতিকদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছে কীভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। ভোটের মাঠে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিচারিক হাকিমদের নিয়ে তদন্ত সংস্থা গঠনের বিষয়ও কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান সিইসি।
সিইসি বলেন, তারা কোনো ধরনের পরামর্শ দেননি। কারণ তারা আমাদের উদ্দেশ্য ও নিয়ত সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন। আমাদের ফোকাস একটাই, দেশবাসীকে একটি সুন্দর, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া।
ব্রিফিংয়ের পর ঢাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনে কাজ করা আত্মবিশ্বাসী সহকর্মীরা একটি অসাধারণ ব্রিফিং করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণ এই নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তারা মাসের পর মাস আমাদের সাথে যে কাজ করেছেন, সে জন্য ধন্যবাদ জানাই। নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো উদ্বেগের কথা বলেছেন কী না, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি ইইউ রাষ্ট্রদূত।