ভোক্তা অধিকারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাধা, পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে উত্তেজনা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ব্যবসায়ীদের বাধা ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনার সময় এমন ঘটনা সংগঠিত হয়।
গত বুধবার রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগে মৌলভীবাজার এলাকায় তদারকি জোরদার করা হয়। এর অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় কয়েকটি দোকানে মূল্য তালিকা না থাকা এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। এতে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত দলের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়।
ঘটনার ভিডিওফুটেজে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, তারা কোনো জরিমানা দেবেন না এবং অভিযানের প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রাখবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং ব্যবসায়ীদের মারমুখী অবস্থানের কারণে মোবাইল কোর্ট দল অভিযান শেষ না করেই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চলমান তদারকি কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে অভিযানে বাধা দেয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত কর্মকর্তার কাজে বাধা দেয়া এবং তাকে ঘেরাও বা হুমকি দেয়া দণ্ডণীয় অপরাধ এ কথা উল্লেখ করে দ্রুত মামলা দায়ের ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে অসাধু চক্র বা ‘মাফিয়াদের’ লাগাম টেনে ধরতে না পারলে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাদের মতে, প্রশাসনের তদারকিতে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর বার্তা দেয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
আইন অনুযায়ী, সরকারি কাজে বাধা, হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যেতে পারে। একই সাথে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি ও মূল্য তালিকা না রাখার দায়েও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মামলা বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে। রমজানকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান, আইন প্রয়োগ এবং ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল আচরণ সবই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।