চৌগাছায় ৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
Printed Edition
এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
যশোরের চৌগাছায় ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক। ৭৪০টি অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৬৫৭ জন। শূন্য রয়েছে ৮৩টি পদ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসঙ্কট ও তদারকির ঘাটতিতে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই নাজুক হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সংখ্যায়। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৩টি সরাসরি সরকারি এবং ৭৬টি সাবেক রেজিস্টার্ড বিদ্যালয়, যা তিন ধাপে জাতীয়করণ করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী ২৫ হাজার ৯৯৩ জন। এর মধ্যে উপবৃত্তির আওতায় রয়েছে ২০ হাজার ২৩৫ জন। তবে গত ছয় মাসে উপবৃত্তি পেয়েছে ১৭ হাজার ২৩৫ জন। উপবৃত্তির বাইরে রয়েছে পাঁচ হাজার ৭৫৮ জন শিক্ষার্থী।
গত মঙ্গলবার উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌর এলাকার জিওলগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কংশারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায় শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। শিক্ষকরা জানান, ফিডিং কর্মসূচি না থাকায় টিফিনের পর অনেক শিক্ষার্থীই বাড়ি চলে যায়।
বাঘারদাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, ২০২৫ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৬২ জন। চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। বিভিন্ন কারণে আটজন শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। অভিভাবকদের একটি অংশ কওমি ও ক্যাডেট মাদরাসার দিকে ঝুঁকছেন বলেও জানান তিনি। প্রধান শিক্ষক পদে ১৩৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৬২ জন। অর্থাৎ ৭৭টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানা যায়।
শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ হওয়া ৭৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে পাঁচটির সাবেক রেজিস্টার্ড প্রধান শিক্ষককে সহকারী শিক্ষক হিসেবে পদায়নের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাদের পদোন্নতিও আটকে আছে। ওই পাঁচ বিদ্যালয়ে তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি আরো নাজুক। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক জেলা শহর যশোর থেকে যাতায়াত করেন। কেউ কেউ দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকেন। আবার ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অনেকে ডেপুটেশনে থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষকসঙ্কট তীব্রতর হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তার কার্যালয়ে পাঁচজন এটিওর জায়গায় আছেন মাত্র তিনজন। অন্যান্য কয়েকটি পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে ১৩৯টি বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করাও কঠিন। প্রাথমিক শিক্ষার মান ফেরাতে তিনি সচেতন মহল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।