পর্যায়ক্রমে স্কুলশিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হবে : প্রধানমন্ত্রী
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
দেশের পুঁঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হবে। সেই সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী চারজন সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন। অন্যান্য প্রশ্নোত্তরগুলো টেবিলে পঠিত বলে জানানো হয়।
খুলনা-৪ আসনের সদস্য এসকে আজিজুল বারীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ার মার্কেটের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। সরকার ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বাড়ানো, বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসার ইত্যাদির মাধ্যমে উন্নত ও টেকসই পুঁজিবাজার গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে ধীরে ধীরে পুঁজিবাজার অবস্থার পরিবর্তন করছে এবং এটি ভালো করছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারের নেয়া অগ্রাধিকার ১৭ দফা কর্মসূচি তুলে ধরেন। পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক পতন ঘটিয়ে হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
সরোয়ার জামাল নিজামের এক সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকেও আমরা শক্তিশালী করতে পারব।
আব্দুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বীমা কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বীমা উন্নœয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ বা ইডরা’ গ্রাহকদের নানা অভিযোগ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মো: সেলিম রেজার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করতে কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই সমস্যার আশু সমাধানে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সব ফ্রন্টেই অত্যন্ত জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা-৯ আসনের মো: আবুল কালামের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে ডিজিটাল এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কৃষকের ডিজিটাল ডাটাবেজ ও সরকারি সেবা তাদের কাছে সরাসরি পৌঁছে দেয়ার জন্য কৃষককার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনের হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের সম্মানি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, এর সাথে সম্মানি বাড়াতে না পারলে তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করা যাবে না। চলতি বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঁচ বছর শেষে এটাকে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
নারী সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইডেন কলেজকে বিশ^বিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা আপাতত নেই।
শাম্মী আখতারের আরেক সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু হবিগঞ্জেই নয়, আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলড্রেস ও ব্যাগ দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ নেতা বলেন, চীন সফরে আমরা তাদের সাথে চুক্তি সই করেছি। আমরা তাদের কাছে কাঁঠাল রফতানি করব। মালয়েশিয়া প্রতি বছর চীনে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ডুরিয়ান এক্সপোর্ট করে। তারা পারলে নিশ্চয়ই আমরাও নিশ্চয়ই কাঁঠাল রফতানি করে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হবো। এ সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কৃষিশিল্প কারখানাগুলো সচল করার কথা জানান তিনি।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় জাকাতব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে।
শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রশ্নে তিনি বলেন, পেঁয়াজ ও রসুনের অপচয় রোধ এবং সংরক্ষণে সরকার বাস্তবমুখী ব্যবস্থা নিয়েছে। এরই মধ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সাড়ে ৩ হাজার ব্লোয়োর ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বেজা কর্তৃক এখনো অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়ে কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী : ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা পীর মোহাম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন ও লেখাপড়ার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে নিজেদের দক্ষ, যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গঠনের আহ্বান জানান। সেই সাথে শারীরিক শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতিও গুরুত্ব দেয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। ঢাকা-৩ আসনের গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জিনজিরা পীর মোহাম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৫০ শিক্ষার্থী ও ১১ শিক্ষকসহ ৬১ জন গতকাল সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন।
বাসযোগ্য দেশই অঙ্গীকার : ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ বাস্তবতা বিবেচনায় বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের এক যুগান্তকারী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এটি কেবল একটি সরকারি কর্মসূচি নয়, বরং জাতীয় আন্দোলন। গাছ লাগাতে দেশবাসীকে আরো উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ বছরও জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার : রাজধানীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মী আব্দুস সালামের কাছে উপহার পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল এই উপহার পৌঁছিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারির আতিকুর রহমান রুমন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সচিবালয়ে যাওয়ার পথে পুরানা রমনা থানার কাছে একটি এটিএম বুথের সামনে নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালাম ধানের শীষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার প্রকাশ এক সময় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল আব্দুস সালামের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তার হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাটে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম।