গাজায় মানবিক কেন্দ্র ও বহুজাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত নয় এমন এলাকায় মানবিক আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার জন্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে ‘বোর্ড অব পিস’। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাফাহর কাছে তেল আল-সুলতান এলাকা এই প্রকল্পের প্রথম কেন্দ্র হবে, যেখানে হামাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নন-এমন বেসামরিক লোকজনকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বোর্ডের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বাহিনীটি গাজার বাইরে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং মানবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব এলাকায় স্থায়ী কংক্রিটের ভবন নির্মাণ করা হবে না। এর পরিবর্তে অস্থায়ী আবাসন, চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাহিনীর ঘাঁটিতে প্রথম দফার কৌশলগত যানবাহন পৌঁছেছে বলে বোর্ড অব পিস জানিয়েছে। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে হামাসের একটি প্রতিনিধিদল কায়রো পৌঁছেছে।

ইসরাইলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩, আহত ১৯

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় এক শিশুসহ তিনজন নিহত এবং আরো ১৯ জন আহত হয়েছেন। খবর আনাদোলু অ্যাজেন্সির। চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন।

শরণার্থীদের জন্য জরুরি সহায়তার আহ্বান জাতিসঙ্ঘের

জাতিসঙ্ঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর তহবিলে ১০ কোটি মার্কিন ডলারের ঘাটতি পূরণে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অর্থসঙ্কটের কারণে সংস্থাটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে লাখো নয়, কোটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীর জীবন ও মৌলিক সেবা হুমকির মুখে পড়বে। নিউইয়র্কে আয়োজিত দাতা সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, গাজায় ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং লেবাননে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে ইউএনআরডব্লিউএর ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইসরাইলের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ এবং অর্থসঙ্কট সংস্থাটির কার্যক্রমকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএনআরডব্লিউএ বর্তমানে গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুসালেম, জর্দান, লেবানন ও সিরিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ, আশ্রয় ও সামাজিক সেবা দিয়ে আসছে। তবে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র তহবিল স্থগিত করার পর সংস্থাটি কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়।