আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি

Printed Edition
onno-1
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ওয়ার্কশপ ও গ্যারেজ পরিদর্শন করছেন এক বাসিন্দা : ইন্টারনেট

আলজাজিরা

  • অন্তত ৩৭৫টি ড্রোন ও ২১টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়
  • হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো
  • এখন পর্যন্ত ১ জন নিহত ও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন

একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবিতে চার বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভ রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় লণ্ডভণ্ড। গতকাল শনিবার শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দিনে যখন রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হয়েছেন, ঠিক তখনই ইউক্রেনের প্রধান শহরগুলোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মস্কো।

আবুধাবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে আলোচনায় বসেছেন ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ ও রুশ প্রতিনিধি দল। তবে আলোচনার টেবিলে বসার কয়েক ঘণ্টা আগেই কিয়েভ ও খারকিভে আছড়ে পড়ে রুশ মিসাইল। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভে একটি গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ ও আবাসিক গ্যারেজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘মস্কো একদিকে শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে আমাদের সাধারণ মানুষকে হত্যার মাধ্যমে আলোচনা প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরো জানান, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন যুদ্ধের সমাপ্তির প্যারামিটার এবং পরবর্তী কূটনৈতিক ধাপগুলো নির্ধারণ করা।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে বিশেষ করে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। চেরনিহিভ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাজধানীর প্রায় ছয় হাজার বাড়ি বর্তমানে হিটিং বা তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়াই তীব্র শীতের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি গ্রিড ধ্বংস করে শীতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ।

মার্কিন মধ্যস্থতায় এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অধিকৃত ভূখণ্ড। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলছেন যে, ভূখণ্ড নিয়ে কোনো আপস করা হবে না, তবে রাশিয়াকে অবশ্যই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, ক্রেমলিন তাদের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা এই আলোচনাকে এক অনিশ্চিত মোড় এনে দিয়েছে।

আবুধাবি শান্তি আলোচনা কেবল রাশিয়া বা ইউক্রেনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় এই আলোচনার সাফল্যের দিকে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব। তবে ইউক্রেনের মাটিতে আজকের এই ‘ব্রুটাল’ বা নৃশংস হামলা শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর এক কালো ছায়া ফেলেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয়, তবে চলমান শীতকালে ইউক্রেনে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। এখন দেখার বিষয়, আবুধাবির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কূটনীতিকদের আলোচনা কিইভ বা খারকিভের ধ্বংসস্তূপে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে কি না।