ব্রিটিশ ও ফরাসি দূতের সাথে জামায়াত আমিরের বৈঠক
শ্রিংলার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট। বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। এ দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
গতকাল সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে জামায়াত আমিরের বসুন্ধরা কার্যালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান, হেড অব পলিটিক্যাল টিমোথি ডাকেট এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি কেট ওয়ার্ড উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ আশা প্রকাশ করেন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরো শক্তিশালী এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্য ভবিষ্যতে আরো গতিশীল হবে। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক : এ ছাড়া গত সন্ধ্যায় ফরাসি রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লেট জামায়াত আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তার সাথে ছিলেন ডেপুটি রাষ্ট্রদূত মি. ফ্রেদেরিক ইনজা ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মি. জুলিয়েন ডিউর। বৈঠকে নির্বাচন ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতের পক্ষে ড. যুবায়ের আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার মন্তব্যের নিন্দা : ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার এবং বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার কঠোর সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও পররাষ্ট্র নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে তারা কাকে ভোট দেবে; কোনো বিদেশী রাজনীতিকের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই। শ্রিংলার বক্তব্যকে ‘তথ্যবিকৃত’ ও ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে জামায়াত আশা প্রকাশ করে যে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রাখবে।