নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী হত্যা গৃহশিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড
Printed Edition
নোয়াখালী অফিস
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বহুল আলোচিত স্কুলছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় তার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম ওরফে রনিকে (৩৩) ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল নামের একটি বাসা থেকে অদিতার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো: সেলিম শাহী জানান, মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদিপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন। আসামির উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অদিতা কিছুদিন আগে রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে ঘরে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাকে আক্রমণ করে হত্যাকাণ্ড ঘটান এবং ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম রনি নোয়াখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার লাতু কাউন্সিলরের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে।
এই রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্পন্ন হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।