জাপানের উইকেটে ভরসা গামিনি

Printed Edition
khela-2
জাপানের এই উইকেটেই হবে এবারের এশিয়ান গেমস ক্রিকেট : এশিয়ান গেমস ওয়েবসাইট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

এশিয়ান গেমসে সোনার পদক পুনরুদ্ধারের মিশন। সামনে নতুন দেশ, নতুন কন্ডিশন এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-কেমন হবে জাপানের উইকেট? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই মিরপুরে নিজেদের প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে টাইগারদের অনুশীলন ক্যাম্প। জাপানের উদ্দেশে ২৪ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়ার আগে মিরপুরেই নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিচ্ছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন দল।

জাপানের নিসশিন সিটির কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কের ক্রিকেট মাঠ কেমন, সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা নেই এশিয়ান গেমসের ওয়েবসাইটে। তবে সাইটে থাকা মাঠের ছবি দেখে মনে হতে পারে, জাপানের মতো সহযোগী দেশ যতটুকু তৈরি করেছে, সেটি যেন অনেক। তবে এবারের প্রস্তুতির বড় একটি অংশজুড়ে আছে জাপানের উইকেট। আইচি-নাগোয়ার কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ব্যবহৃত পিচটি তৈরি করছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন কাজ করা শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। প্রায় ১৫ বছর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

জাপানের উইকেট সম্পর্কে বাংলাদেশের ভরসা গামিনিই। দলীয় সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জানে, ড্রপ-ইন পিচ তৈরি করা হয়েছে এশিয়ান গেমসের জন্য। কয়েক দিন আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ জাপানের মাঠ ও উইকেট নিয়ে করা প্রতিবেদনে যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতেও ড্রপ-ইন পিচ দেখা গেল। এমন উইকেটে বড় স্কোর উঠবে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ। জাপানে তো আর ক্রিকেট খেলা হয়নি শান্তদের। পদক লড়াইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাও এখানে সাম্যাবস্থায়। গেমস তো এমনই, যেখানে সবার জন্য এক ব্যবস্থা।

গামিনি ডি সিলভা বাংলাদেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিচিত মুখ হলেও তার তৈরি জাপানের পিচ বাংলাদেশের জন্য পুরোপুরি অচেনা। কারণ এটি মিরপুরের প্রচলিত উইকেট নয়; কোরোগি স্পোর্টস পার্কে তৈরি হচ্ছে হাইব্রিড পিচ, যেখানে কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক ঘাসের সমন্বয় থাকছে। বাংলাদেশ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দীনও জানিয়েছেন, উইকেটের প্রকৃত আচরণ সম্পর্কে এখনো তাদের পরিষ্কার ধারণা নেই। তবে কে উইকেট তৈরি করছেন, সেটি তারা জানেন। তার মতে, গামিনিকে দোষ দেয়ার সুযোগ নেই-উইকেটের আচরণ অনেকটাই নির্ভর করবে জাপানের আবহাওয়া ও পরিবেশের ওপর।

তবে গামিনির সাথে যোগাযোগ করেই উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে আগাম ধারণা নেয়ার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। বাউন্স, বলের গতি, স্পিনারদের জন্য সহায়তা কিংবা ব্যাটিংয়ের উপযোগিতা-সম্ভাব্য সব দিক সম্পর্কে তথ্য নিয়ে ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করতে চায় দল। জাপানের উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হাতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থাকছে। পুরুষদের আগে একই ভেন্যুতে এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের মেয়েদের অভিযান শুরু ১৭ সেপ্টেম্বর। ফলে নারী দলের ম্যাচগুলো থেকেই পুরুষ দলের কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেটাররা উইকেটের বাস্তব আচরণ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

মোহাম্মদ সালাউদ্দীনও বলেছেন, মেয়েদের ম্যাচ থেকে মাঠ ও উইকেট সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। পুরুষ দলের জাপানযাত্রার আগেই কোরোগি স্পোর্টস পার্কের পিচ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শুধু উইকেট নয়, বাংলাদেশের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ টি-২০র ম্যাচ ফ্লোতে দ্রুত ফিরে আসা। কয়েক মাস ধরে টেস্ট ও ওয়ানডেকে বেশি গুরুত্ব দেয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে টি-২০ ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। ফলে জাপানে গিয়ে সরাসরি বড় ম্যাচে নামার আগে মিরপুরের প্রস্তুতি ম্যাচ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২১ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। এ ম্যাচগুলোতে শুধু একাদশ কিংবা খেলোয়াড়দের ফর্ম যাচাই নয়, দ্রুত রান তোলার পরিকল্পনা, পাওয়ারপ্লের ব্যবহার, ডেথ ওভারের বোলিং এবং চাপের মধ্যে ম্যাচ শেষ করার দক্ষতাও ঝালিয়ে নিতে চাইবে দল।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছিল ২০১০ সালে। গুয়াংজুতে পুরুষ দল স্বর্ণপদক জিতেছিল। এরপর ২০১৪ ও ২০২৩ সালে এসেছে ব্রোঞ্জ। এবার সে সোনালি স্মৃতি ফিরিয়ে আনাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।

এবার লিটন দাসের নেতৃত্বে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই এশিয়ান গেমসে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আইসিসির প্রকাশিত স্কোয়াডে লিটনের সাথে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, হৃদয়, রিশাদ, মাহেদী, নাসুম, মোস্তাফিজ, শরীফুল ও হাসান মাহমুদের মতো ক্রিকেটাররা।

পুরুষদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হলেও বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে খেলবে। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ২৯ সেপ্টেম্বর, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল। যে গ্রুপে রয়েছে হংকং, ওমান ও মালয়েশিয়া। এশিয়াডে সব ম্যাচ দিনের আলোয়। দেশেও দিনের আলোয় খেলে তৈরি হয়ে যাবে বাংলাদেশ। ১ অক্টোবর সেমিফাইনাল এবং ৩ অক্টোবর ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচ ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। জাপানে বাংলাদেশের সামনে তিনটি বড় প্রশ্ন-কেমন হবে গামিনির তৈরি হাইব্রিড পিচ, কত দ্রুত টি-২০’র ছন্দে ফিরতে পারবে দল এবং শেষ পর্যন্ত সোনার পদক কি ফিরবে?