৭ দিনে ছাত্রদল নেতাসহ ৫ খুন

বগুড়ায় একের পর এক খুনের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক

Printed Edition

বগুড়া অফিস

জাতীয় নির্বাচনের পর হঠাৎ করে বগুড়ায় খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে বগুড়া জেলায় একজন ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজন খুন হয়েছেন। কিন্তু কোনো আসামি গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। নতুন সরকারের শুরুতেই একের পর এক খুনের ঘটনায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে নতুন সরকারও অস্বস্তিতে পড়ছেন। সাধারণ মানুষ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত শনিবার ফাহিম হোসেন (১৯) নামের ছাত্রদল নেতা খুন হন। তিনি বগুড়া সদরের নওদাপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ও বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য ছিলেন। শনিবার সকালে মাটিডালী বিমানমোড় এলাকায় ফাহিমকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাহিম মারা যায়।

নিহত ফাহিমের বোনের স্বামী সেতু জানান, একই গ্রামের তনয় নামের এক যুবক ফাহিমের ছোট বোন রিমিকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তিন মাস আগে তনয় সেতুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে মামলা করলে পুলিশ তনয়কে গ্রেফতার করে। দুই সপ্তাহ আগে তনয় জামিনে মুক্ত হয়। শনিবার ফাহিম মাটিডালী এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মাটিডালী বিমানমোড় এলাকায় তনয় ফাহিমের পথরোধ করে বুকে ও পিঠে উপর্যুপরী ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাহিম মারা যায়।

বগুড়া সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, বোনকে উত্ত্যক্ত করার জের ধরেই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

সুইপার খুন : গত ১২ ফেব্রুয়ারি বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে পাঁচ শ’ টাকা চাঁদা না দেয়ায় মাদককারবারির ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মারা গেছেন বগুড়া পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মী (সুইপার) সুনীল বাঁশফোড় (২৩)। সে শহরের সেউজগাড়ী সুইপার কলোনির সন্তোষ বাঁশফোড়ের পুত্র । খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে লাশ নিয়ে গত বুধবার বিােভ করেছে হরিজন সম্প্রদায়। মরদেহ নিয়ে শহরের সাতমাথায় অবস্থান, বিােভ মিছিল এবং পুলিশ সুপার (এসপি) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন। বিােভ থেকে খুনিদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয়। খুনি গ্রেফতার না হলে সারা দেশে হরিজনরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

ট্রাক চালককে গলা কেটে হত্যা : গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে জেলার গাবতলী উপজেলার সেন্দাবাড়ী এলাকায় সাইফুল ইসলাম (৪০) নামের এক ট্রাক মালিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের একটি ঘাসের জমিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত সাইফুল ইসলাম ওই এলাকার জামাল উদ্দিন ওরফে জামুর ছেলে। পুলিশের ধারণা, ব্যবসায়িক কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

নিহতের মেয়ে সাদিয়া আক্তার বলেন, বাবা প্রতিদিন দেরি করে বাড়ি ফেরেন। কাল ভোরেও যখন বাবা ফিরছিলেন না, তখন আমরা খোঁজাখুঁঁজি শুরু করি। পরে বাড়ির সামনেই বাবার রক্তাক্ত লাশ পাই। গাবতলী মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।