শোকার্ত বিক্ষোভকারীদের জন্য কলা-রুটি হাতে শাহবাগে রাশিদা
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
এক হাতে কলার কাদি, অন্য হাতে পাউরুটি নিয়ে ছুটছেন ৬০ বছরের রাশিদা রহমান। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর বিচারের দাবিতে শাহবাগে শোকার্ত বিক্ষোভকারীদের ডেকে ডেকে রুটি কলা বিতরণ করছেন তিনি। একটি ভ্যান গাড়িতে কলা-রুটি খেজুরসহ অন্যান্য খাবার নিয়ে এসেছেন রাশিদা। নিজের জমানো টাকায় কেনা খাবার নিয়ে সকালেই ছুটে আসেন শাহবাগে।
কান্না জড়িত কণ্ঠে রাশিদা বলেন, ওসমান হাদি আমার রক্তের কেউ নয়। কিন্তু তার দেশপ্রেম আমাকে মুগ্ধ করেছে। এই দেশপ্রেমের জন্য তার মৃত্যু আসন্ন জেনেও থেমে থাকেনি। হাদির মৃত্যুর খবর শুনে সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ওসমান হাদির জন্য যারা রাস্তায় নেমেছেন তারাও দেশপ্রেমিক। তাই তাদের জন্য জমানো সামান্য কিছু টাকা দিয়ে খাবার কিনে এনেছি।
বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের পর গতকাল সকালে শাহবাগে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করে সর্বস্তরের জনগণ। বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকে শাহবাগে। তাদের জন্য রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে খাবার নিয়ে ছুটে আসেন রাশিদা রহমান। শাহবাগে সকাল ১০টার দিকে রাশিদা রহমান বলেন, আমার সন্তানতুল্য ছেলে মারা গেছে। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ওর মুখটা চোখের সামনে ভাসছে। দেশের প্রতি ভালোবাসা জড়ানো বক্তব্যগুলো কানে বেজেছে। সকালে উঠেই নিজের জমানো টাকা দিয়ে খাবারগুলো কিনেছি। ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদকারীদের মধ্যে খাবারগুলো বিতরণ করব; যদিও এখানে উপস্থিত মানুষের তুলনায় খাবারের পরিমাণ অনেক কম।
আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারাই দেশকে ভালোবাসবে- তাদেরকেই কি এভাবে চলে যেতে হবে? এ দেশের মানুষের বাংলাদেশ ভালোবাসা কি অন্যায়? রাশিদা বলেন, আমরা একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি। ওসমান হাদির মতো দেশপ্রেমিক সাহসী মানুষকে হারিয়ে আমরা শোকাহত। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার মারা যান ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশ- বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় বিক্ষোভ।