অভিন্ন প্রশ্নে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ

অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নিজের উত্তরপত্র নিজেই দেখার সুযোগ পাবেন

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন, যার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। মাদরাসা ও কারিগরি বোর্ডের বাইরে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রথমবারের মতো একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে এবার বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- কানো শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ বা ফেল করলে এবার নিজের উত্তরপত্র নিজেই দেখার সুযোগ পাবেন। অতীতে শুধু ফি জমা দিয়ে উত্তরপত্র পুনঃগণনার আবেদন করা যেত, যেখানে কেবল প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে দেখা হতো।

সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তি ছড়ালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরীক্ষা শেষে খাতা মূল্যায়নের মান যাচাইতে সব বোর্ডের খাতা থেকে ‘স্যাম্পল খাতা’ নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাক্রম যুগোপযোগী করার কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রোধে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা ঢাকা থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ থাকবে। এবার মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং পরীক্ষার দিন বাদে বাকি দিনগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস চলবে। ইতঃপূর্বে নকলের জন্য চিহ্নিত ভেনু কেন্দ্রগুলো এবার বাতিল করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ছয় লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মোট ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ তিন লাখ ৩৯৩ জন এবং বরিশাল বোর্ডে সর্বনিম্ন ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া রাজশাহী বোর্ডে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোর বোর্ডে এক লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুর বোর্ডে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন ও সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৬১১ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

গ্রুপভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সাধারণ বোর্ডে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ছয় লাখ ১৭ হাজার ৬৯৭ জন পরীক্ষার্থী মানবিক শাখার। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিজ্ঞান শিক্ষায় ভীতি, শিক্ষকের অভাব এবং ল্যাব সুবিধার ঘাটতির কারণে প্রান্তিক পর্যায়ে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমছে এবং মানবিকে বাড়ছে। এ ছাড়া মাদরাসা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এক লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

মাদরাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ১১ এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন। মোট ৪৬১টি কেন্দ্রে দুই হাজার ৭০৫টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। মাদরাসার বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুসারে মানবিক শাখায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৬১৬ জন, বিজ্ঞান শাখায় সাত হাজার ৬২৬ জন এবং মুজাব্বিদ বিভাগে অংশ নেবে ৬৬৩ জন। অন্য দিকে কারিগরি বোর্ডে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এক হাজার ৩৪৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠেনের পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৭৭ হাজার ৫৫২ এবং ছাত্রী ৩০ হাজার ৪১২ জন।