বিরোধী দল হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে : মির্জা ফখরুল

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

আমাদের একটা বিরোধী দল আছে, দুর্ভাগ্যবশত তারা আবার হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে- বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল দুপুরে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে লাভ বিডি শেয়ার নামের একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ২৫ জন সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে চায়ের দোকানের ঘর হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন তিনি।

লাভ বিডি শেয়ারের সভাপতি যুক্তরাষ্ট প্রবাসি জাহিদ খানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেজেকা সুলতানা ফেনসি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, ডিসি মোগাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

বিরোধী দল হাসিনার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতো এরা ওই ভাষায়ই কথা বলতেছে। করতে দিব না, চলতে দিব না, শেষ করতে দিব না। এইসব বলতে শুরু করেছে না? টার্ম শেষ করতে দিব না, পারবে না।’

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আরে বাবা! হয়েছে তো মাত্র চার মাস, পাঁচ মাস। এই চার মাস পাঁচ মাসে তো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। বহু পরিবর্তন। একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি টেনে তোলা শুরু হয়েছে। একটা বিপর্যস্ত প্রশাসন, তাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজটা তো এত সহজে, এত তাড়াতাড়ি হয় না। আলা উদ্দিনের চেরাগ তো নাই কারো হাতে। অথচ তাদের ভাষায় এই মুহূর্তে হতে হবে।’

বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘তারা (বিরোধী দল) গণতন্ত্রকে চলতেই দিতে দেয় না। তারা যে ভাষায় কথা বলে তা গণতন্ত্রের ভাষা না। আমরা (বিএনপি) নির্বাচনে জিতছি, মেজোরিটি পেয়েছি। আমরা তো পার্লামেন্ট চালাব, দেশ চালাব সেই ম্যান্ডেট তো আমরা পেয়েছি। আমাদেরকে দেশ চালাতে দেন। ব্যর্থ হলে তখন না আপনি বলবেন যে আপনি চালাতে পারেন নাই। তার আগেই রাস্তায় নেমে শুরু হয়ে গেছে সেই সমস্ত কথাবার্তা। আসুন আমরা গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলি। আমরা গণতন্ত্রকে তার পথে চলতে দেই। আমরা জনগণের নির্বাচিতদের কাজ করতে দেই। তাহলে আমরা গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে পারব। ’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ১৫ বছরে একটাও তেল, গ্যাস বা তেলের খনি আবিষ্কার করার চেষ্টাও করে নাই। অনুসন্ধান হয় নাই। আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বাপেক্স, সেটা তারা একদম পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের এখানে গ্যাস খনন করবার জন্য দরপত্র করা হয়েছে। সেগুলো আসতেছে।’

তেল গ্যাস সঙ্কট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই যে তেল আর গ্যাস এটা বিদেশ থেকে আনতে হয় জাহাজে করে এবং সেটাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। এই যুদ্ধ ইরাক, ইরান এবং আপনার যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধ, আমেরিকার যুদ্ধে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বেশি পেমেন্ট করতে হয়েছে। এর মধ্যেও কিন্তু একদিনও আপনারা তেল ছাড়া থাকেন নাই। একদিনও কিন্তু আপনারা গ্যাস ছাড়া থাকেন নাই। কমেছে। হয়তো যেটা আগে দশটা পাওয়া যেত এখন চারটা পাওয়া যায়। এটা আমরা চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যাটার সমাধান হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষকে খুন এবং ১৭ শ’ মানুষকে গুম করা হয়েছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ গড়তে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

পরে চায়ের দোকানের দলিলপত্র উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন মির্জা ফকরুল।