গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হলেন নিয়াজ আহমদ
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাবি সাবেক ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে পরামর্শক (সিনিয়র স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি ট্রাস্ট। নিয়াজ আহমদ খান ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি পদত্যাগ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ) দর্শনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। এরই মধ্যে পাঁচটি স্কুলের অধীনে ১৪টি অগ্রাধিকারমূলক প্রোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি যা বললেন
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে নিয়াজ আহমদ খান এ বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
তিনি এতে লিখেছেন. আমার শুভানুধ্যায়ী, বন্ধু এবং ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই জানতে চেয়েছেন আমার বর্তমান দিনগুলো কেমন চলছে। আমাকে স্মরণে রাখা এবং কুশল জানতে চাওয়ায় তাঁদের প্রতি সবসময়ের মতোই আমি কৃতজ্ঞ।
তিনি লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের প্রশাসনিক দায়িত্ব স্বেচ্ছায় ছেড়ে আসার পরে আমি আগেও যেমন বলেছি, মূলত শিক্ষকতা, গবেষণা এবং প্রতিষ্ঠান তৈরিতে এখন সময় দিচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার বিভাগে অর্থাৎ ডিপার্টমেন্ট অব ডেভলপমেন্ট স্টাডিজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কিছু ক্লাস নিচ্ছি এবং গবেষণা প্রকল্পের মেন্টরিং করছি। এর পাশাপাশি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে আমি খণ্ডকালীন পরামর্শক তথা ‘সিনিয়র স্ট্রাটিজিক অ্যাডভাইজার’ হিসেবে এই নতুন প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে কিছু ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশী বাস্তবতায় একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জিং কাজটি নিয়ে কিছু দেশবরেণ্য উদ্যোমী মানুষ সাহস করে মাঠে নেমেছেন। আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান এবং সামর্থ্যে চেষ্টা করছি তাঁদের এই উদ্যোগে কিছু অবদান রাখতে।
সবশেষে তিনি লেখেন, দেশেই আছি; প্রিয় শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সাথে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ হচ্ছে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-আইইউবি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পাঁচ বছরের অধিককাল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে ব্যক্তিগত গবেষণা ও লেখালেখির যে ঘাটতি হয়েছে, তারও কিছুটা পূরণের চেষ্টা করছি। পুরনো বন্ধু ও পরিবারকে দীর্ঘদিন পরে কিছু সময় দেয়ার সুযোগ পাচ্ছি। সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে কাজ করছি। এই-তো....
শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাধ্যমে আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে আল্লাহ অনেক সম্মান দিয়েছেন। এক জীবনে এই ঋণ শোধ হওয়ার নয়। প্রায়ই আমার রজনীকান্ত সেনের এ’ গীতিটি মনে পড়ে :
‘আমি অকৃতী অধম বলেও তো, কিছু কম ক’রে মোরে দাওনি;
যা’ দিয়েছ তারি অযোগ্য ভাবিয়া, কেড়েও তো কিছু নাওনি!’
আপনাদের সবার জন্য আবারো শুভ কামনা ।