কৃষকের ধান ক্রয়ে অনিয়ম, ঘুষ না দেয়ায় ধান ফেরতের চাপ
Printed Edition
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকার নির্ধারিত দামে ধান কেনার কথা থাকলেও গুদামে ধান ঢোকাতে টনপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষকের ধান ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে নিকলী খাদ্যগুদামে এক হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ধান ও দুই হাজার এক মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, দালাল চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারি বস্তা ব্যবহার করে আগে ধান সংগ্রহ করছেন।
দামপাড়া ইউনিয়নের কৃষক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার ৩০৭ মণ ধান ওজন করে গুদামে নেয়া হলেও টনপ্রতি দুই হাজার টাকা ঘুষ না দেয়ায় গুদামের কর্মকর্তা ধান ফেরত নেয়ার চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টিতে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক আল আমিন জানান, অগ্রিম টাকা দেয়ার শর্ত দেয়ায় তার মতো অনেক প্রান্তিক কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এলএসডির ওসি হিমেল। তিনি বলেন, গুদামে কোনো অনিয়ম হয়নি বরং তার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অন্য দিকে নিকলী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা লুৎফুর নাহার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচনের কথা বললেও, প্রভাবশালীদের সুপারিশে মুক্তিযোদ্ধাসহ একাধিক ব্যক্তির নাম তালিকায় নাম ঢোকানোর বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তার দাবি, জাতীয় পরিচয় সংগ্রহ করে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে। এ ছাড়া তার কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ আসেনি। জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, এ ধরনের অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।