মালখানা ব্যবস্থাপনায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের থানা ও আদালতের মালখানা ব্যবস্থাপনায় একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক নীতিমালা তৈরি করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

১২ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র সচিব ছাড়াও পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) একজন প্রতিনিধি, কোস্ট গার্ডের একজন প্রতিনিধি, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), রিটকারী আইনজীবী এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। দেশের আইন সচিবকে আগামী দুই মাসের মধ্যে এই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন সম্পন্ন করে আদালতে এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে বুধবার রিটের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, যাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট সাদ্দাম হোসেন এবং অ্যাডভোকেট জায়েদ বিন আমজাদ।

এর আগে সারা দেশের থানায় ও আদালতে মালখানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোটি কোটি টাকার মামলার আলামত নষ্ট হওয়ার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনা হলে ২০২৪ সালের ১৮ জানুয়ারি তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশ জারি করেছিলেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো: আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন বেঞ্চ সারা দেশের মালখানায় থাকা আলামতের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে ২ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশ প্রধানকে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আদেশে সতর্ক করা হয়েছিল। তারও আগে, ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী যথাক্রমে মোহাম্মদ নোয়াব আলী, মো: মুজাহেদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, জি এম মুজাহিদুর রহমান এবং ইমরুল কায়েস যৌথভাবে সারা দেশের মালখানা ব্যবস্থাপনায় সরকারের অবহেলাকে অবৈধ ঘোষণা করার আর্জি জানিয়ে এই জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সারা দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালত মালখানাগুলোর চরম অব্যবস্থাপনার কারণে কোটি কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি, মোটর সাইকেল এবং অন্যান্য আটককৃত মূল্যবান জিনিসপত্র বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে পচে নষ্ট হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদের অপচয়। রিট দায়েরের সময় ঢাকার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ থানার মালখানার জরাজীর্ণ অবস্থা ও ধ্বংসপ্রায় আলামতের ছবি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন আদালতের সামনে দাখিল করা হয়েছিল। মামলার বাদিরা মালখানা ব্যবস্থাপনায় সরকারকে আধুনিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করেন।