ভয়মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিতে সব পদক্ষেপ নেয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে ভয়মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তার সবই করবে। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে অতিবাহিত করেছি। ভয়ভীতির মধ্যে বসবাস করলে মানুষের মানসিক যন্ত্রণা কতটা তীব্র হয়, তা আমি জানি। বিশেষ করে গণমাধ্যমের মতো সংবেদনশীল পেশায় যারা কাজ করেন, তাদের যদি সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থাকতে হয়, তা হলে তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।’
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘আমরা সেই পরিকল্পনার আলোকেই বাংলাদেশে একটি ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তুলব, ইনশা আল্লাহ।’
তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গুজব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের ক্ষমতায়ন করলেও এর মাধ্যমে নতুন কিছু জটিলতাও তৈরি হয়েছে। ‘তবে প্রযুক্তির সমস্যার সমাধানও প্রযুক্তির মাধ্যমেই করতে হবে। আমরা তথ্যকে নির্ভেজাল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী হিসেবে অগ্রাধিকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পেছনে রাজপথের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের অবদানও কম নয়। ‘দীর্ঘ আন্দোলনের এই পথে গণমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোও ছিল একেকটি যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে আপনাদের সহযোগিতা আমরা পেয়েছি।’
তিনি বলেন, আন্দোলনের অন্য সহযোদ্ধাদের যেভাবে মূল্যায়ন ও সম্মান দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সহকর্মীদেরও সেভাবেই বিবেচনা করা হবে। মন্ত্রী আরো জানান, নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক রয়েছে। এর পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করা যাবে। ‘আজ শুধু সৌজন্যতা বিনিময় করছি, এর বাইরে আর না যাওয়াই ভালো,’ বলেন তিনি।
নির্বাচনের আগে-পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষমতা বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অন্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও এ বিষয়ে ভেবেচিন্তে এগোতে হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ‘গণমাধ্যমের লক্ষ্য হচ্ছে তথ্যকে নির্ভেজালভাবে মানুষের কাছে উপস্থাপন করা। আমরা সেই নীতিমালার আলোকে সব সমস্যার সমাধানে কাজ করব।’