৭২ বছর পর কোয়ার্টারে স্ইুজারল্যান্ড

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্রেস স্টেডিয়াম। এই ফুটবল মাঠটি সুইজারল্যান্ডের জন্য লাকি গ্রাউন্ড। এই স্টেডিয়ামে আগের দুই ম্যাচে জিতেছিল তারা। তাই মাঠের আশীর্বাদ পাওয়া এই ইউরোপিয়ান দেশটি মনস্তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়ার বিপক্ষে। শেষ পর্যন্ত কানাডার পশ্চিম অংশের এই বিশ্বকাপ ফুটবল গ্রাউন্ড আবারো দু’হাত নিয়ে এগিয়ে এলো সুইজারল্যান্ডের পক্ষে। শেষ ১৬-এর ম্যাচেও জয় কলম্বিয়ার বিপক্ষে। এতে ৭২ বছর পর ফের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইজারল্যান্ড।

কানাডার টরন্টো ৩ জুলাই শেষ করেছে তাদের এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন। বাকি ছিল কানাডার অপর প্রান্তের ভ্যাঙ্কুভার স্টেডিয়াম। এখানে গতকাল সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া খেলার মাধ্যমে সমাপ্তির রেখা টানল চলতি বিশ্বকাপের কানাডা পর্ব। সাথে শেষ হলো লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার বিশ্বকাপ মিশনও। গোলশূন্য ১২০ মিনিট শেষে টাইব্রেকারে সুইসরা ৪-৩ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়াকে। কোয়ার্টারে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।

গত পরশু শেষ ১৬-এর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল। পাঁচটি গোল করেছে দুই দল মিলে। সেখানে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়া ম্যাচে ১২০ মিনিটে কোনো গোলই হয়নি। গোলের চান্স পেয়েছিল দুই দলই। এতে অপেক্ষাকৃত বেশি সুযোগ কলম্বিয়ানদের। তবে এই লাতিন দেশটির ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা আর সুইস গোলরক্ষকের প্রতিরোধ একটিবারের জন্যও বল জালে যায়নি।

এই যুক্তরাষ্ট্রের মাঠেই ২০২৪-এর কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ফাইনালে হেরেছিল কলম্বিয়া। তখনো দলটির কোচ আর্জেন্টিনার নেস্টর লরেঞ্জো। এবারো তিনি। তবে দলের খেলোয়াড়রা যেমন ১২০ মিনিটের ম্যাচে গোল পাননি, তেমনি টাইব্রেকারেও চাহিদামতো বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ।

ম্যাচের ২০ মিনিট বয়সে গোলের খুব কাছে চলে গিয়েছিল কলম্বিয়া। তাদের গুস্তাবো পুয়ের্তার বাঁকানো শট বাম দিকে শরীর ফেলে কর্নার করেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। এরপর ৩০ ও ৩২ মিনিটে সুইজারল্যান্ডের দু’টি আক্রমণ বিফলে যায়। প্রথমে ফাবিয়ান রেইডার এবং পরে ড্যান এনডয়ের শটে বাধা হয়ে দাঁড়ান কলম্বিয়ান গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস।

গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষে ৬৩ মিনিটে আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় কলম্বিয়া। এবার তাদের তারকা ফুটবলার লুইস দিয়াজকে হতাশ করেন সুইস গোলকিপার। গোল করতে না পারার মিছিলে এরপর যোগ দেন লুইস সুয়ারেজ। তারপর পর দু’টি চেষ্টা লক্ষ্য মিস করে। প্রথমে তিনি ফাঁকা পোস্ট পেয়েও মারেন উপর দিয়ে। এরপর তার মাটি ঘেঁষা শটে চলে যায় পোস্টে বাতাস দিয়ে।

তবে ৯০ মিনিটের খেলা শেষে কলম্বিয়ার জন্য অন্যতম হতাশার মুহূর্ত ৯৮ মিনিটে। সেই সময় তারা একটি কর্নার পায়। সেই কর্নার কিক থেকে জন লুুকুমির হেড ক্রসবারে প্রতিহত হয়। একটু পরেই জন আরিয়াস পারেননি দলকে গোল উপহার দিতে। তার শটও রুখে দেন সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক। ১০৩ মিনিট সময়ে স্ইুজারল্যান্ড বঞ্চিত হয় গোল থেকে। এবার তাদের বদলি ফুটবলার জাকি আমদোনির শট বাম দিকে শরীর ফেলে প্রতিহত কলম্বিয়ার গোলরক্ষকের। ১১৫ মিনিটে সুইসদের হতাশায় ডোবান জোনাথন কামপাজ। তিনি বল বারের উপর দিয়ে মারলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল কলম্বিয়া। এবারো ‘টাইব্রেকারে’ হার। টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার জুয়ান ফার্নান্দো কুইনতেরোর শট গোল হলেও পরের শটেই গোল মিস। বল লেগেছে পোস্টে। এরপর জ্যামিল্টন কামপাজ বিপক্ষ কিপারকে পরাস্ত করলেও হার্নান্দেজের শট ঠেকান সুইস কিপার। বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের গ্রেনিথ জাকা এবং ব্রিল এমবোলো গোল করার পর ম্যানুয়েল আকাঞ্জি মারেন বারের উপর দিয়ে। এরপর সুইসদের সেড্রিক ইটেন গোল করেতে সক্ষম হন। পরে কলম্বিয়ার লুইজ দিয়াজ গোল করার পর কলম্বিয়ার সমর্থকরা চেয়ে ছিল সুইজারল্যান্ডের রোবেন ভারগাস যেন গোল করতে না পারেন; কিন্তু হয়েছে উল্টো। ভরাগাস গোল করার সাথে সাথেই উল্লাসে মেতে ওঠেন সুইস সমর্থকরা। এতে করে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইজারল্যান্ড। এর আগে ১৯৫৪ সালে সর্বশেষ তারা শেষ আটে উঠেছিল। অন্য দিকে কলম্বিয়া ২০১৪ সালের পর আর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারল না।