বাংলাদেশের কর রাজস্বে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কল্যাণের প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় বিনিয়োগের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব নেতিবাচক। অন্যদিকে কর রাজস্বের প্রভাব ইতিবাচক। একই সাথে দেখা যায় দেশীয় বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উভয়ই কর রাজস্বকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর রাজস্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগে কোনো প্রভাব ফেলে না। বাংলাদেশের কর রাজস্ব নীতিমালা দেশী-বিদেশী বিনিয়োগে অনিরাপদ এবং বিনিয়োগের নীতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনিরাপদ বলে প্রতীয়মান হয় ।

ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে হলে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তত্ত্ব ও মডেলগুলো বর্তমান আর্থিক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এমন উৎসগুলো শনাক্ত করতে সাহায্য করে, যা ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে। বাস্তবে, অনেক অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, প্রবৃদ্ধি আধুনিক অর্থনীতির একটি মৌলিক প্রক্রিয়া। এটি উৎপাদন উপাদানের বিকাশের ওপর নির্ভরশীল। শিল্প বিপ্লব, নতুন খনিজ ও জ্বালানিসম্পদের প্রাপ্তি এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত। এটি মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দেয়, কারণ এটি আরো বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জনসংখ্যাগত কাঠামো এবং সমাজের জীবনমানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একইভাবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ দারিদ্র্য হ্রাসেও সহায়তা করে।

দেশীয় বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, দেশীয় বিনিয়োগ ও মূলধন গঠন বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। অর্থনৈতিক তত্ত্ব বলে, বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে মূলধন সঞ্চয় বাড়ে, যা পরবর্তীতে প্রবৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে। অর্থনৈতিক সাহিত্যেও কর রাজস্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক বহুল আলোচিত। যদিও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনেক উপাদান প্রভাব ফেলে, করব্যবস্থার প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি। কর একদিকে রাজস্ব আহরণের মাধ্যম, অন্যদিকে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের প্রণোদনাতেও ভূমিকা রাখে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজের বড় অংশ কর নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। তবে কর নীতিমালার প্রভাব জটিল। আয়কর ও করপোরেট কর সরাসরি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। আবার ভোক্তা কর সঞ্চয়, উৎপাদন ও ভোগের ধরনেও প্রভাব ফেলে। এ সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ভর করে করের ধরন ও হার, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং উন্নয়ন পর্যায়ের ওপর। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোয় করব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলা এবং টেকসই উন্নয়নে অপরিহার্য।

প্রযোজ্য সবার করদানে সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যখন এবং যেখানে উদ্বুুদ্ধ ও প্রণোদনামূলক পন্থা পদ্ধতি প্রয়োগের কথা, সেখানে কর আহরণ পরিবেশ পরিস্থিতিকে স্বয়ম্ভর ও অভিজ্ঞ মনে করে কঠিন কঠিন পদ্ধতি প্রয়োগের পরাকাষ্ঠা যদি দেখানো হয় বা অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হয়; তাহলে করদাতারা স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন না। দেখতে হবে আইন সংস্কারের পাশাপাশি রীতিপদ্ধতিকে করদাতা বান্ধবকরণের নামে পরিবেশ পরিস্থিতি আরো কঠিন করা হচ্ছে কি না। কর আহরণ পদ্ধতি প্রক্রিয়া কঠিন হলে যারা এখনো করের আওতায় আসেননি তারা করদাতা হতে ভয় পেতে পারেন। পাশাপাশি যারা দিচ্ছেন, তারাও সঠিকভাবে কর দিতে উৎসাহ হারাতে পারেন। যদিও এ দেশের অর্থনীতি কর সংস্কৃতিতে ও অবকাঠামোয় ততটা উন্নত নয়, তথাপি যদি উন্নত বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি, রীতিপদ্ধতি ও নিয়মকানুন সরাসরি অনুসরণে অনুগামী হওয়া অব্যাহত থাকে তাহলে সাফল্য আসতে ও টেকসই হতে বিলম্ব হবে। যে স্টেজে যে মনোভঙ্গি বা উপলব্ধি থাকার কথা, সেটায় না থেকে আমরা যদি ভাবি যে, উন্নত অর্থনীতির মতো আমাদের- সব করদাতা শিক্ষিত, করদানে দায়িত্বসচেতন, তারা আইন কানুন বোঝেন জানেন, তাহলে কর-দৃষ্টিভঙ্গি (মাইন্ডসেট) ভিন্ন আঙ্গিকে নির্মিত হতে বাধ্য। এমন অবস্থায় রাজস্ব আহরণ পরিবেশ পরিস্থিতি প্রোগ্রেসিভ না হয়ে রিগ্রেসিভ হতে পারে। নতুন করদাতা আসতে যেহেতু চাচ্ছেন না, বা তাদের আনা যাচ্ছে না, সেহেতু তাদের স্থলে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ বেড়ে গেলে তারাও পথ খুঁজতে পারেন কিভাবে কর ফাঁকি দিয়ে পরিত্রাণ মিলতে পারে।

প্রতি বছর যে অর্থবিধি জারি করা হয়, সেখানে বিদ্যমান তিনটা রাজস্ব আহরণ আইনের সংশোধন ও সংযোজন পরিমার্জনে গুরুত্ব দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইনের স্থলাভিষিক্ত একটি নতুন আইন প্রবর্তিত হয়েছে ২০১২ সালে। যদিও ২০১৯ সালের আগে কার্যকর করা যায়নি। ১৯৬৯ সালের কাস্টমস আইনের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে ২০২৩ সালে। পাশাপাশি ইনকাম ট্যাক্সের ১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশটির নবায়ন করে আয়কর আইন ২০২৩ প্রবর্তিত হয়েছে। এসবের পাশাপাশি এবং এসব সত্ত্বেও এখনো দেখা যাচ্ছে, অর্থবিধিতে বিস্তর রিভিশনের প্রস্তাব করা হচ্ছে। বছর বছর ট্যাক্স রেট, কর রেয়াতের মাত্রা, অবকাশের হার ও ক্ষেত্রে নিত্যনতুন সংশোধন, সংস্কার প্রস্তাবনা প্রতি বছর যেন বেড়ে চলেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, শুধু নতুন আয়করের ক্ষেত্রে বহু সংস্কার প্রস্তাব আনা হয়েছে আইনটি বলবতকরণের বছরে। এমনকি এ বছর ২০২৬ সালের অর্থবিধিতে অনেকগুলো প্রতিস্থাপন প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে সেগুলো বিনাবাক্য ব্যয়ে পাস করা হয়েছে সংসদে ২৯ জুন। ২০২৩ সালে সংসদে তড়িঘড়ি করে পাস করা আয়কর আইনে এমন সব বিধান ঢোকানো আছে তার কোপানলে পড়ছেন সাবেক এবং বর্তমান আইনপ্রণেতা নিজেরাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত দু-দুটি কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অনেক বিধানের প্রয়োগ অপপ্রয়োগের প্রসঙ্গ। কমিটিদ্বয় আইনগুলোতে সংশোধনযোগ্য বিধি-বিধানগুলো তালিকা করে দেয়া আছে। এগুলো অনুসরণের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ এখনো হালে পানি পায়নি। এক্ষেত্রে যা খেয়াল রাখা হয়নি, প্রতি বছরের অর্থবিলে যদি এক-একটা আইনের ধারা উপধারা অতি পরিবর্তন-পরিবর্ধন ও সংশোধনের হিড়িক পড়ে; তখন সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষে ওইসব পরিবর্তন ফলো করা কঠিন তো হয়ই, এসব প্রয়োগে জটিলতা আরো বাড়ে বৈ কমে না।

ব্যবসাবাণিজ্য বিনিয়োগে সিদ্ধান্ত নিতে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় করদাতাদের। আইনের সংশোধন সংক্রান্ত এসআরওর প্রয়োগ ন্যূনতম তিন বছর বা তার বেশি হলে ওই এআরওর কার্যকারিতা অনুসরণ অনুধাবন যুক্তিযুক্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। এদিকে আয়কর পরিপত্র-১ জারিতে বিলম্ব করেও তাতে কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা নিরসনে ব্যাখ্যার অবকাশ থেকে যায়। এসবই সঠিক পরিমাণে ন্যায্য কর আদায়ে বিলম্ব সৃষ্টি বা অন্তরায় হিসেবে কাজ করতে পারে। পরিপত্রে স্পষ্টীকরণ করতে গিয়ে যে দীর্ঘসূত্রতা তা থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব না হলে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রতিবেশগত নানা প্রভাব পুরো বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর আদায়ে অপারগ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থবছর শুরু থেকে ঝড়বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি আরো নানান উপলক্ষের সমস্যা থাকে, এর সুযোগ নিয়ে আয়কর দেয়ার সময় বাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে সবাই। এ অবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে বেরিয়ে আসতে সেবার আইনে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের স্থলে পাঁচ মাস পর্যন্ত। অর্থাৎ নভেম্বর মাস পর্যন্ত ব্যক্তি আয়কর দেয়া যাবে। যেহেতু সবাই অপেক্ষা করে পরিপত্র জারির, তাই সেই কাক্সিক্ষত ব্যাখ্যার জন্য অপেক্ষায় কিংবা পরিপত্র জারির দেরি হওয়াকে হয়তো নভেম্বর নির্ধারণে প্রেরণা হিসেবে কাজ করে থাকতে পারে। কিন্তু আমরা যদি সবাইকে করের আওতায় আনতে চাই, তাহলে অর্থবছর শেষ হওয়ার পর পাঁচ মাস পর্যন্ত অপেক্ষার অবকাশ অর্থাৎ সময়ক্ষেপণের এ ধরনের অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে সবার জন্য যথাসময়ে কর দেয়ার সহজ সুযোগ সৃষ্টি শ্রেয়তর বিবেচিত হতে পারে।

রাজস্ব আহরণের যে পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ সেখানে করদাতাবান্ধব আইন ও পদ্ধতি প্রক্রিয়ার সংস্কার জরুরি প্রতীয়মান হয়। কিভাবে নতুন করদাতা বাড়ানো যায়, সে চেষ্টা করা উচিত। আইন নিয়ে কথা উঠেছে, দাবি উঠেছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে আইন প্রণয়নের। এক্ষেত্রে বারবার আইনের ধারা উপধারা বদলে ফেলায় আইন মানার সংস্কৃতি সেভাবে বিকাশ লাভ করেনি। রেট, সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা এগুলো প্রতি বছর বদলানোয় মাঠপর্যায়ে এটা অনুধাবন অনুসরণে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এসব মান্য করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলার উপক্রম দেখা দেয়। রাজস্ব আহরণ আইনে আনীত সংশোধনীসমূহ এমনভাবে আনতে হবে, যাতে তা স্থায়িত্ব পায়। আইনে সহজবোধ্যতা থাকলে সবাই তা জানবেন। সেটি সামনে রেখে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেবেন। সবাই কর দিতে আগ্রহ দেখাবেন। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, রাজস্ব আহরণ আইনে নতুন কোনো ধারা বা প্রভিশন যুক্ত করার আগে সে ব্যাপারে জনমত যাচাই করে নেয়া শ্রেয়। অন্তত বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথা বলতে হবে। নতুন বিধি-বিধান দিয়ে আইন প্রবর্তনের পর তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিয়ে আদালতে মামলা হলে আরেক দফা দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।

এই প্রেক্ষিতে ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর এবং দেশীয় বিনিয়োগ কাঠামো পুনর্গঠনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে-

১.আয় নির্ধারণ ও কর ফাঁকি প্রতিরোধে গবেষণা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ বাড়ানো। ২. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মধারাকে বাস্তবায়ন ও নীতি প্রণয়ন দুটি পৃথক বিভাগের ওপর ন্যস্তকরণ। ৩. করদাতাদের অভিযোগের শুনানি ও পারস্পরিক আস্থা সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান কর ন্যায়পাল অফিস পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ৪. মধ্যবিত্তের ওপর চাপ কমাতে এবং উচ্চ আয়ের শ্রেণীর কাছ থেকে বেশি কর আদায় নিশ্চিত করতে নতুন কর স্লাব প্রবর্তন। ৫. কর প্রণোদনা নীতিগুলোর কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করে কেবলমাত্র সবচেয়ে ফলপ্রসূগুলো বজায় রাখা। ৬. যেসব দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি আছে, ওইসব দেশের পণ্যের ওপর আমদানি কর আরোপ করা। ৭. এমন নীতি গ্রহণ করা, যেখানে প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখবে। প্রয়োজনে প্রত্যেকে প্রাপ্য সহযোগিতা পাবে। ৮. শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো, পরিবহন ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে নাগরিক জীবনে মৌলিক পরিবর্তন আনা। ৮. কর রাজস্বের গঠন ও দেশীয় বিনিয়োগের প্রকৃতি সম্পর্কে সরকারকে আরো মনোযোগী হওয়া। ১০. দেশীয় বিনিয়োগ আরো বুদ্ধিদীপ্ত ও উৎপাদনশীল খাতে পরিচালিত করা, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়। ১১. প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কমাতে সুশাসন নীতি বাস্তবায়ন। ১২. মূলধনী বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি দূরীকরণে নতুন কৌশল গ্রহণ করা।

লেখক : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান