১৯৭১-এর ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়। দ্রুত সংবিধান প্রণয়ন করে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর তা কার্যকর করা হয়। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার পথনকশা হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্র গ্রহণ করা হয়; কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বাংলাদেশকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থার একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র এবং মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, এটা ছিল সাংবিধানিক কাঠামোর মূল দর্শন।
কিন্তু ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত করা হয়। একই সাথে একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়, যা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। তবে সংসদীয় গণতন্ত্রের আকাক্সক্ষা কখনো সম্পূর্ণ বিলীন হয়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার অবসান ঘটে। ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফিরে আসে।
অতএব, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস শুধু সাংবিধানিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের ইতিহাস নয়; এটি রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য, জনগণের সার্বভৌমত্ব, সংসদের মর্যাদা এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস। এ অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দেয়, শুধু সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান থাকলে গণতন্ত্র কার্যকর হয় না। প্রয়োজন শক্তিশালী সংসদ, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, কার্যকর বিরোধী দল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জনগণের কাছে রাষ্ট্রক্ষমতার জবাবদিহি।
দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ পর্যালোচনা করলে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি ও বাস্তব চর্চার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য লক্ষণীয়। সংসদীয় ব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্য শুধু নিয়মিত সংসদ বসা, আইন পাস করা কিংবা বাজেট অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল মাপকাঠি হলো, নির্বাচন কতটা প্রতিযোগিতামূলক, বিরোধী দলের উপস্থিতি কতটা কার্যকর, সরকার কতটা জবাবদিহির আওতায় থাকে, সংসদীয় কমিটিগুলো কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং জনগণের মতামত ও অধিকার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে কতটা প্রতিফলিত হয়।
দশম জাতীয় সংসদ : ২৯ জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা এ সংসদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ছিল ২০১৪ সালের নির্বাচন ঘিরে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি-সহ বিরোধী জোটের নির্বাচন বর্জন। ফলে সংসদে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের আধিপত্য অত্যন্ত প্রবল হয়। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন দুর্বল হয়ে পড়ে। বিরোধী দলের কার্যকর উপস্থিতি না থাকায় সংসদের জবাবদিহিমূলক ভূমিকা সীমিত ছিল। ওই সংসদকে বলা হতো, ভোটারবিহীন সংসদ। দশম সংসদ গঠন প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্পৃক্ততা ছিল না।
একাদশ জাতীয় সংসদ : ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এ সংসদ ২০১৯ সালে কার্যক্রম শুরু করে। আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিএনপি ও তার মিত্রদের অংশগ্রহণ থাকলেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অনিয়ম, ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগে নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তবে দশম সংসদের তুলনায় একটি পার্থক্য ছিল, বিরোধী দল সংসদে উপস্থিত থেকে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নেয়; কিন্তু সংখ্যাগত ভারসাম্য এতটাই অসম ছিল যে, সরকারের সিদ্ধান্তকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা বিরোধী দলের সীমিত ছিল। ওই সংসদকে অবহিত করা হতো রাতের ভোটের সংসদ। তাই দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেটির কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ : ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াত বর্জন করে। ফলে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিসর ব্যাপকভাবে সঙ্কুচিত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য মুক্ত, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। এ সংসদে জাতীয় পার্টি মাত্র ১১টি আসন পায়। ৬২ জন স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হন। শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। মাত্র ছয় মাস স্থায়ী এ সংসদ সাংবিধানিকভাবে কার্যকর হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার গভীরতার প্রশ্নে দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল। উপরোক্ত সংসদের একটি বড় সমালোচনা হলোÑ সংসদীয় জবাবদিহির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রশস্তি অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এ সংসদে প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধী দল ছিল না। ওই সংসদকে আমি-ডামির সংসদ বলে বিশেষায়িত করা হয়েছিল।
প্রথম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ সংসদীয় গণতন্ত্রকে অকার্যকর করেছে। প্রথম, দশম, একাদশতম এবং দ্বাদশ সংসদ এই চারটি সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় মোট ৫৯টি অধিবেশনে রাষ্ট্রের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ বিপুল অর্থ অপচয়ের কোনো যৌক্তিকতা ছিল না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশন : ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ৩০ এপ্রিল শেষ হয়। দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় ৭ জুন। ১৫ জুলাই শেষ হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনটি ছিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন।
দু’টি অধিবেশনে নতুন সংসদ নিজের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের নিষ্পত্তি, আইনপ্রণয়ন, বাজেট আলোচনা, মন্ত্রীদের জবাবদিহি এবং সংসদীয় কমিটি সক্রিয় করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তবে সংসদকে আরো কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক ও জনমুখী করার সুযোগ এখনো আছে।
প্রথম অধিবেশন : প্রথম অধিবেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর সংসদীয় নিষ্পত্তি। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদের সামনে উপস্থাপিত হয়। এর মধ্যে ৯৪টি বিল পাস করা হয়। ২৫ কার্যদিবসে ৯৪টি বিল পাস করা সংসদের আইনপ্রণয়ন সক্ষমতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এত বিপুলসংখ্যক অধ্যাদেশ ও আইন স্বল্প সময়ে নিষ্পত্তিতে সংসদীয় পর্যালোচনার গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। শুধু সংখ্যাগত সাফল্য নয়, প্রতিটি আইনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রভাব যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি।
প্রথম অধিবেশন : প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ২৮০ জন সংসদ সদস্য আলোচনা করেন। সাতটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়, যার মধ্যে পাঁচটি স্থায়ী ও দু’টি বিশেষ কমিটি ছিল। নতুন সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, এটি যেন শুধু আইন পাসের প্রতিষ্ঠান না হয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয় অধিবেশন ও বাজেট : ৭ জুন শুরু হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশন ছিল সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। মোট ২৬টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন করেন। ৩০ জুন বাজেট পাস হয়। বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় ৩১৬ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫১ মিনিট আলোচনা হয়। এত বিপুলসংখ্যক সদস্যের অংশগ্রহণ ইতিবাচক। তবে বাজেট আলোচনায় সরকারের ব্যয়, রাজস্বনীতি, ঋণ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আঞ্চলিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো কতটা তথ্যভিত্তিকভাবে আলোচিত হয়েছে, তাও গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রীদের কাছে পাঁচার হাজার ৩১টি প্রশ্ন জমা দেয়া হয়। তিন হাজার ৪৭৪টির উত্তর দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ২৭৮টি প্রশ্ন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩৫টির উত্তর লিখিতভাবে দেয়া হয়। প্রশ্নের সংখ্যা সংসদ সদস্যদের সক্রিয়তার পরিচায়ক হলেও এর গুণগত মান আরো গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের বাস্তব সমস্যা, সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, নদীভাঙন, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক দুর্বলতা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে কতটা সরকারের নজরে আনা হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ মূল্যায়নে গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ৭১৫টি নোটিশ দাখিল করা হয়; এর মধ্যে ২৪টি গ্রহণ এবং ২২টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ১২৫টি দুই মিনিটের নোটিশ নিয়ে আলোচনা এবং চারটি প্রস্তাব নিষ্পত্তি করা হয়। সংসদীয় আলোচনা আরো ফলপ্রসূ করতে হলে দলীয় রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তথ্য, গবেষণা, পরিসংখ্যান ও জনগণের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিষয় উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে ১১টি স্থায়ী ও বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও ছিল। সংসদীয় কমিটি মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড গভীরভাবে পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি করে। এসব কমিটি নিয়মিত বৈঠক করে সরকারি ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন, অনিয়ম, দুর্নীতি ও নীতিগত ব্যর্থতা নিয়ে অনুসন্ধান এবং সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর নজর রাখলে সংসদের জবাবদিহিমূলক ভূমিকা আরো শক্তিশালী হবে।
সামগ্রিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে কয়েকটি ইতিবাচক দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন, বিপুলসংখ্যক অধ্যাদেশ ও আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় আনা, বাজেট আলোচনায় ব্যাপক অংশগ্রহণ, মন্ত্রীদের কাছে বিপুলসংখ্যক প্রশ্ন এবং সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম শুরু করা। তবে আইন পাসের গতি যেন পর্যালোচনার গভীরতা ছাপিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধী মত ও সমালোচনার পর্যাপ্ত সংসদীয় পরিসর এবং তথ্যভিত্তিক বিতর্ক নিশ্চিত করাও জরুরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা যায়। পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে শক্তিশালী সংসদীয় কমিটি, কার্যকর প্রশ্নোত্তর, বিরোধী মতের যথাযথ সুযোগ এবং জনগণের বাস্তব সমস্যার ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়া হলে এ সংসদ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে। মনে রাখতে হবে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রায় ৭৬ শতাংশ সদস্য প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাদের কাছ থেকে অতীতে অভিজ্ঞদের মতো পরিপক্ব সংসদীয় ভূমিকা পালনের আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। তবে এ সংসদের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনের কার্যক্রম বিবেচনায় নেয়া হলে এটা পরিষ্কার যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ জাতির জন্য আশাজাগানিয়া হতে পারে।
শেষ কথা হলো, যেকোনো সংসদ কার্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে তখন, যখন সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, চিফ হুইপ যথাযথ ভূমিকা পালন করেন। ত্রয়োদশ সংসদের সংসদ নেতার পদে তারেক রহমান নবীন। স্পিকার হাফিজউদ্দিন স্বপদে নবীন। বিরোধী দলের নেতা ডা: শফিকুর রহমানও প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছেন। উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, তিনজনই নবীনত্বের বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে এসে সংসদকে কার্যকর এবং প্রাণবন্ত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। সংসদের চিফ হুইপ অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম সংসদের গতিশীলতা ঠিক রাখতে অবদান রাখছেন।
লেখক : সম্পাদক, নয়া দিগন্ত