আগের যুদ্ধাপরাধের বিচারগুলোর সময় দেশের মূলধারার দু-একটি বাদে সব গণমাধ্যম যে ভূমিকা পালন করেছিল, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংস্থা এবং বিদেশী সংবাদমাধ্যমের কাছে এ আদালতের মান ধুলোয় মিশিয়ে দিতে যথেষ্ট হয়ে ওঠা একের পর এক যেসব বিতর্ক ও কেলেঙ্কারি তৈরি হচ্ছিল, আমাদের প্রচারমাধ্যমের মাঝে সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার একটি সর্বসম্মত প্রবণতা ছিল বেশ দৃশ্যমান। কিন্তু সব সত্যকে নিস্পৃহতার দেয়াল দিয়ে আড়াল করা যায় না। কেলেঙ্কারিগুলো ছিল এতটা গুরুতর যে, শেষ পর্যন্ত সেগুলো আর চাপা দেয়া সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার কোনো সাধারণ বিচারিক ঘটনা নয়; পৃথিবীতে এমন বিচার খুব বিরল। আর যখন তা অনুষ্ঠিত হয়, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীক্ষè নজর স্বাভাবিকভাবে তার ওপর নিবদ্ধ হয়। স্টিভেন কে কেসি, জন ক্যামেগ কেসি ও টবি ক্যাডম্যানকে নিয়ে গঠিত আমাদের আন্তর্জাতিক আইনজীবী দল বিচারপ্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে এবং এর ত্রুটিগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সময়নাগাদ আন্তর্জাতিক নজর এড়ানোর সব আয়োজন ভেস্তে গিয়েছিল। ততদিনে ট্রাইব্যুনালের বিশ্বাসযোগ্যতায় যে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছিল, তা আর আড়ালের উপায় ছিল না।
জুলাই বিপ্লবের পর, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের গ্লোবাল ক্রিমিনাল জাস্টিস বিষয়ক কর্মকর্তা জেনিফার গ্লডেম্যানস ও ডেভিড ম্যান্ডেল-অ্যান্থনির সাথে সাক্ষাৎকালে এটি জেনে অত্যন্ত আশ্বস্ত হয়েছিলাম যে, ট্রাইব্যুনালের বিচারিক ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরতে আমাদের প্রচেষ্টাগুলো তাদের দৃষ্টি এড়ায়নি। মিসেস গ্লাউডেমানস আমাদের স্পষ্ট করে জানান, আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত বিচারিক মানদণ্ড অনুসরণে ট্রাইব্যুনালের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সাথে তার সম্পৃক্ততা বন্ধ করে দিতে বাধ্য করেছিল। তিনি আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন— আগের ট্রাইব্যুনালগুলোর সঙ্ঘটিত অবিচারের প্রতিকার করা না হলে, সেই একই বিচারব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান ট্রাইব্যুনালও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট থেকে রেহাই পাবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সতর্কবার্তাটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ট্রাইব্যুনালের বিচারে এখন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সদস্যরা চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সঙ্ঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হচ্ছে। তবে কেবল রাজনৈতিক চরিত্রগুলোর পরিবর্তন ঘটলে আপনা-আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা ফিরে আসে না। আসামির পরিচয় বদলে দিলে বিচারকে গ্রহণযোগ্য করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন আওয়ামী লীগ আমলের বিতর্কিত আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে আইনি ও নীতিগতভাবে একটি স্পষ্ট ও প্রকাশ্য বিচ্ছিন্নতা। বর্তমান ট্রাইব্যুনালের সামনে অতীতের সেই অন্যায় থেকে বের হয়ে আসার এক ঐতিহাসিক সুযোগ আছে। ট্রাইব্যুনালের উচিত অতীতে ঠিক কোথায় গলদ ছিল তা উন্মোচন করা। সেই সাথে সাক্ষ্য ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঠিক মানদণ্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু ঘটতে দেখিনি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। অতীতে তারা যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল, এবার আর তার পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।
এ ব্যর্থতার স্পষ্ট উদাহরণ হলো আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার আসামিপক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির নিখোঁজ হওয়া। ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর তিনি আসামিপক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালের বাইরে এলে সেখান থেকে নিখোঁজ হন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলাম যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু অভিযোগটির স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেয়ার বদলে ট্রাইব্যুনাল মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রসিকিউশনের বক্তব্য গ্রহণ করেন। এছাড়া অভিযোগটি আসামিপক্ষের বানানো গল্প বলে কার্যত উড়িয়ে দেন। দেশের প্রভাবশালী গণমাধ্যমের বড় অংশও ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে অনুসন্ধানের প্রয়োজন বোধ করেনি। দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ২৪—কোনোটি স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করে বালির সাথে আসলে কী ঘটেছিল; তা উদঘাটনে আগ্রহ দেখায়নি। তৎকালীন বিবিসি বাংলার প্রধান ছিলেন সাবের মোস্তফা (যিনি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাথে যুক্ত ছিলেন), তার নেতৃত্বে বিবিসি বাংলাও বারবার বালিকে শুধু ‘নিখোঁজ’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে; তাকে অপহরণ করা হয়েছিল— এমন অভিযোগের আশঙ্কাকে কোথাও গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেনি। শেষ পর্যন্ত ভারতের একটি কারাগারে বালির সন্ধান মিললেও সংবাদ পরিবেশনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অন্য একটি প্রশ্ন— তিনি কি স্বেচ্ছায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন?
দ্য ডেইলি স্টার তখন এক অদ্ভুত শিরোনাম করেছিল— ‘বালিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়নি’। কিন্তু আসল প্রশ্ন এটি ছিল না যে, কোনো ভারতীয় আদালত তাকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন কি না। বরং প্রকৃত এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল : ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে আসার মুহূর্তে যে ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে গেলেন, তিনি কিভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের একটি কারাগারে গিয়ে পৌঁছালেন?
এ প্রশ্নের একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত হওয়া ছিল স্বাভাবিক দাবি। বাস্তবে ঘটল তার উল্টো। সরকারি ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিবেদনগুলো সামান্যতম যাচাই ছাড়াই গুরুত্ব পেল। পুনঃপ্রচার হলো। পুলিশ, প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনাল কর্মকর্তাদের বক্তব্য যেন স্বতঃসিদ্ধভাবে সত্য বলে বিবেচিত হলো। অন্য দিকে বালির পরিবার, তার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী এবং তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অনুসন্ধানকারী সাংবাদিকদের বক্তব্যকে শুরু থেকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হলো।
২০১২ ও ২০১৩ সালে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো যে বিষয়টি গুরুত্বহীন বলে এড়িয়ে গিয়েছিল, এখন আর তাকে এত সহজে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরবর্তী সময়ে বালি নিজে জানান, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের বাইরে থেকে তাকে অপহরণ করে আটক ও নির্যাতন করে। পরে তাকে ভারত সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। ভারতে তাকে খুঁজে পাওয়ার পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার এ বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২৫ সালের আগস্টে বালি বর্তমান ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও আরো ৩১ জনের বিরুদ্ধে তার অপহরণ, নির্যাতন ও আটকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে বালির কথিত জোরপূর্বক অন্তর্ধানের ঘটনা তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্টতায় পুলিশের একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারকে গ্রেফতার করা হয়। এসব অভিযোগের এখনো চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রাখেন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার— বালির এ ঘটনা আর যাই হোক, আসামিপক্ষের বানানো নাটক বলে চালিয়ে দেয়া যাবে না।
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস— যেসব পত্রিকা একসময় বালির উধাও হয়ে যাওয়াকে ভুয়া বা বানানো গল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছিল, আজ এরাই সেই গুমের ঘটনা থেকে শুরু হওয়া ফৌজদারি তদন্তের খবর আগ্রহের সাথে প্রকাশ করছে।
এখান থেকে উপলব্ধির বিষয় কিন্তু এটি নয় যে, গণমাধ্যমকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের সব অভিযোগ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করে নিতে হবে; শিক্ষাটা হলো— সংবাদমাধ্যমের উচিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করা। বালির ক্ষেত্রে আমাদের মূলধারার অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম আসামিপক্ষের বয়ান নিয়ে কোনো অনুসন্ধান করেনি। সরকারের আনুষ্ঠানিক দাবিকে সত্যের কষ্টিপাথরে যাচাই করেনি। এমনকি বিচারে নিরপেক্ষতার মূল ভিত্তিতে আঘাত হানা ঘটনাটি নিয়ে সামান্য কৌতূহল পর্যন্ত প্রকাশের প্রয়োজন বোধ করেনি।
স্কাইপ কেলেঙ্কারির বেলায়ও আমাদের গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল একই রকম হতাশাজনক। ট্রাইব্যুনাল-১-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: নিজামুল হক এবং ব্রাসেলস প্রবাসী বাংলাদেশী আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দীনের মধ্যকার গোপন কথোপকথন ফাঁস করতে ‘দি ইকোনমিস্টের’ মতো একটি বিদেশী সাময়িকীকে এগিয়ে আসতে হয়েছিল। যারা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল, তারা আগেই লক্ষ্য করেছিল যে, বিচারপতি হকের নামে প্রকাশিত বেশ কিছু আদেশ তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন ও ইংরেজি ভাষার ওপর তার পরিচিত দক্ষতার সাথে ঠিক খাপ খাচ্ছিল না। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছিল— তাহলে এসব আদেশ আসলে কে প্রস্তুত করছিলেন? কিন্তু দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর কোনোটি সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানে যায়নি।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছিল যে— বিচারক, প্রসিকিউশন এবং বাইরের সেই উপদেষ্টার মধ্যে কোনো বিভাজন বা তফাত ছিল না। প্রমাণের দুর্বলতাগুলো কিভাবে ঢাকা যায় এবং সেই ঘাটতি মেটাতে কাদের সাক্ষী হিসেবে তলব করা উচিত— তা নিয়ে তারা সবাই মিলে আলোচনা করছিলেন। ‘আমার দেশ’ পত্রিকা যখন এসব কথোপকথন প্রকাশ করা শুরু করে, তখন অনেক প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম এর মূল বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তৎকালীন সরকার-সমর্থকরা এমন ভাব দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন যেন বিচারপতি হক বিচারের মান বাড়াতে কেবল একজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়েছিলেন। কিন্তু এ ব্যাখ্যায় সেই তথ্য-প্রমাণ বেমালুম চেপে যাওয়া হয়েছিল, যেখানে দেখা যায় একই উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দীন মামলার বিচারক ও প্রসিকিউটর উভয়ের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন। সেই সাথে এমন সব নথি তৈরিতে সহায়তা করছিলেন, যা পরবর্তীতে আদালতের আদেশে পরিণত হয়েছিল।
তবে সাধারণ মানুষ এ তথ্যগুলোর গুরুত্ব ঠিকই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কপিগুলো মুহূর্তে বিক্রি হয়ে যেত। সর্বশেষ চাঞ্চল্যকর খবরগুলো পড়তে মানুষ পত্রিকাটির পাতা ফটোকপি করে নিয়ে যেত। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বিচারপতি হক ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
প্রকৃতপক্ষে, পূর্ববর্তী ট্রাইব্যুনাল এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে পরিচালিত হয়েছিল; যেখানে যেকোনো সমালোচনাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অখণ্ড আনুগত্যের অভাব বা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে গণ্য করা হতো। এ মনোভাব বিচারব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি করেছিল। ১৯৭১ সালের অপরাধের জবাবদিহি দাবি করা আর একটি অন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়াকে সমর্থন করা— দু’টি কখনো এক বিষয় নয়। ন্যায়বিচারের দাবি কখনো ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিগুলো বিসর্জন দেয়ার দাবি করতে পারে না।
একই কথা আজকের প্রেক্ষাপটেও সমানভাবে প্রযোজ্য। চব্বিশের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সাথে যেখানে প্রমাণের সঠিক ভিত্তি আছে, সেখানে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া চালু করা আবশ্যক। কিন্তু সেই অপরাধগুলো যত ভয়াবহ হোক না কেন, সেই অজুহাতে ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ কিংবা আসামির আইনগত অধিকার খর্ব করা কোনোভাবে সমর্থন করা যায় না।
বর্তমান ট্রাইব্যুনালের প্রতিও গণমাধ্যমের একই মাত্রার সতর্কতা ও অনুসন্ধিৎসা থাকা জরুরি, যে সতর্কতা পূর্ববর্তী ট্রাইব্যুনামের ক্ষেত্রেও থাকা উচিত ছিল। সাক্ষ্যপ্রমাণ কতটা শক্তিশালী, তদন্তকারীরা ও প্রসিকিউটররা কীভাবে কাজ করছেন, প্রতিরক্ষা পক্ষ কী কী আপত্তি তুলছে— এসব গভীরভাবে যাচাই ও যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তারও স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি রাজনৈতিকভাবে অপছন্দনীয় হলেই গণমাধ্যম তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রচারযন্ত্রে পরিণত হতে পারে না।
লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিবন্ধিত কৌঁসুলি।