সুইজারল্যান্ডে ইরান-ইসরাইল শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে সাবেক এক সিআইএ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, সুইজারল্যান্ডে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইসরাইল। আরো বলা হয়, চীন ও পাকিস্তান ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এমন পদক্ষেপে বড় ধরনের আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে চীন ও পাকিস্তানের সরাসরি ইসরাইলকে হুমকি দেয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এই গুঞ্জনের ফলে শান্তি আলোচনা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণে একটি নাম অবধারিতভাবে সামনে আসে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণগুলো ভিন্ন সত্যের দিকে ইঙ্গিত করছে। ইসরাইলের বর্তমান নীতি ও আগ্রাসী অবস্থানের মূলে কি কেবল এক ব্যক্তির রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরো গভীর কোনো সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো? বিশ্লেষণ বলছে, ইসরাইলি সঙ্কটের উৎস কোনো একক নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জায়নবাদী লড়াই, গভীর নিরাপত্তাহীনতা এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রোথিত বিশেষ মানসিকতার সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ।
ভয়ের মনস্তত্ত্ব : রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ
ইসরাইলি সমাজের বড় অংশ বিশ্বাস করে, তারা সব সময় সম্ভাব্য ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। এই মনস্তত্ত্বের শিকড় অনেক গভীর, যার প্রধান উৎস ‘হলোকাস্ট’-এর স্মৃতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই বিভীষিকা ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের মূল স্তম্ভ। ঐতিহাসিক ট্রমা থেকে জন্ম নিয়েছে এক বিশেষ ‘অস্তিত্ববাদী সঙ্কট’। ফলে ইসরাইল যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি তীব্রভাবে অনুভব করে। কিন্তু বৈপরীত্য এখানেই যে, সম্ভাব্য হুমকির অজুহাতে বর্তমানে ফিলিস্তিন ও আশপাশে হলোকাস্টের চেয়েও বীভৎস ঘটনা ঘটাচ্ছে দেশটি।
নেতানিয়াহু এই ‘অস্তিত্ববাদী সঙ্কট’ মানসিকতার রাজনৈতিক ব্যবহারে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি প্রায়শই বাইবেলের ‘আমালিক’ (Amalek)-এর উদাহরণ টেনে আনেন। কখনো ফিলিস্তিনি, কখনো লেবানিজ, আবার কখনো ইরানিদের তিনি ‘আমালিক’ বলে উল্লেখ করেন। আমালিকদের নারী, পুরুষ, শিশু, আবালবৃদ্ধবনিতা, এমনকি গৃহপালিত পশুকুল ধ্বংস করাও জায়নবাদী ধর্মে বৈধ।
সম্প্রতি তিনি ইরানের ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাকে নাৎসিদের ‘আউশউইৎস কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’-এর সাথে তুলনা করেছেন। এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আবেগনির্ভর উপমা, যা ইসরাইলি জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ভয় ও ঐতিহাসিক স্মৃতি মুহূর্তে সক্রিয় করে তোলে। এই বয়ানের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও অনেক সময় এই কঠোর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করতে সাহস পান না; বরং নিজেরাও একই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেন।
নিয়ন্ত্রণভিত্তিক নিরাপত্তা মডেল : লেবানন ও পশ্চিম তীরে
লেবানন ও গাজা ঘিরে ইসরাইলের সাম্প্রতিক কৌশলে সুনির্দিষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ করা যায়। অনেক বিশ্লেষক একে বলেছেন, ‘নিয়ন্ত্রণভিত্তিক নিরাপত্তা মডেল’। এই ধারণার কেন্দ্রে আছে নিরঙ্কুশ শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সক্ষমতা এমনভাবে ধ্বংস করা, যাতে তারা আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। ইরানের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে হত্যার পেছনেও এই দৃষ্টিভঙ্গি কার্যকর।
পশ্চিমতীরে ইসরাইলের নীতি দীর্ঘদিন ধরেই এই কৌশলের ওপর দাঁড়িয়ে। সেখানে নিয়মিত সামরিক উপস্থিতি, চেকপোস্ট এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এমন স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে সিরিয়াতেও ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ বা আগাম আঘাত হেনে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহের পথ রুদ্ধ করা হয়।
২০২৪ সালের শেষের দিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আনা যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারত। কিন্তু ইসরাইল সেখানেও একই ‘নিয়ন্ত্রণ মডেল’ প্রয়োগ করতে চায়। যুদ্ধবিরতির পর, এমনকি কূটনৈতিক বৈঠকের সময়ও হামলা অব্যাহত রাখে। এই কৌশলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপই প্রাধান্য পায় এবং রাজনৈতিক ছাড় বা আস্থার পরিবেশ তৈরির মতো বিষয় চরমভাবে উপেক্ষিত।
কাঠামোগত নির্যাতন ও সামাজিক দায়
রামোনা ওয়াদির ‘Torture, Genocide and Erasure’ শিরোনামের বিশ্লেষণ এই প্রসঙ্গে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ইসরাইলি নীতির এক অস্বস্তিকর সত্য তুলে ধরে। ফ্রান্সেসকা আলবানিজের জাতিসঙ্ঘ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি ব্যবস্থায় নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক ঘটনা নয়। এটি একটি কাঠামোগত প্রক্রিয়া, যা ফিলিস্তিনি সমাজকে ভেঙে ফেলা এবং সামাজিকভাবে মুছে ফেলার বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
আন্তর্জাতিক আইনে নির্যাতন গুরুতর অপরাধ। কিন্তু আলবানিজ দেখিয়েছেন, যখন কোনো গোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশে পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক ও মানসিক ভাঙন সৃষ্টি করা হয়, তখন তা ‘গণহত্যা’র উপাদান। গাজা উপত্যকায় হাসপাতাল ধ্বংস, কৃত্রিম খাদ্যসঙ্কট তৈরি এবং গণ-উচ্ছেদ এই ‘বিস্তৃত নির্যাতনের’ অংশ। এই নীতি কেবল সরকারের নয়; বরং ‘সমষ্টিগত’। ইসরাইলের আইনসভা, বিচারব্যবস্থা এবং গণমাধ্যম অনেক সময় নিরাপত্তার নামে এই দমনমূলক নীতির বৈধতা দেয়, যা সমাজের বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য।
ত্রিপক্ষীয় টানাপড়েন : নেতানিয়াহু, ট্রাম্প ও ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এখন আর কেবল ইসরাইল ও তার প্রতিবেশীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মূলত তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের এক জটিল সঙ্ঘাত। এই ত্রিভুজাকার দ্বন্দ্বে প্রতিটি পক্ষই নিজ নিজ কৌশল দিয়ে অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে :
১. নেতানিয়াহুর ‘নিরাপত্তা-আধিপত্য’ দর্শন : নেতানিয়াহুর কৌশলের মূল ভিত্তি ইসরাইলের নিরঙ্কুশ সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব। তার বিশ্বাস, সামরিক শক্তিই টিকে থাকার একমাত্র গ্যারান্টি। প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীগুলোকে সব সময় সামরিক চাপের মুখে রাখা এবং তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেয়া তার লক্ষ্য। এই ‘আগাম আঘাত’ নীতি অঞ্চলটিকে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
২. ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘নিয়ন্ত্রিত শক্তি প্রয়োগ’ : ট্রাম্পের অবস্থান নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মনে হলেও কৌশলগতভাবে তা ভিন্ন। ট্রাম্প ‘শক্তি প্রদর্শন’ এবং অর্থনৈতিক চাপ পছন্দ করলেও দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ঘোর বিরোধী। সম্প্রতি লেবাননে বড় ধরনের হামলার বিষয়ে ইসরাইলকে তার প্রকাশ্যে সতর্ক করাই প্রমাণ করে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্ঘাতকে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে দিতে চান না।
৩. ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ : ইরান সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়ে ‘অসম যুদ্ধ’ কৌশল অনুসরণ করছে। হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি বিদ্রোহীসহ তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে তারা আগ্রাসী ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যতিব্যস্ত রাখে। ড্রোন হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চাপ সৃষ্টি করে তারা জানান দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব উপেক্ষার সুযোগ নেই।
এই তিন দর্শনের লড়াইয়ে কে বিজয়ী হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্বরাজনীতির আগামীর স্থিতিশীলতা। এক জরিপে দেখা গেছে, ইসরাইলের ৮২ শতাংশ মানুষ এখন মনে করছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তিতে মূলত ইসরাইলেরই পরাজয় ঘটছে।
অর্থনীতির ওপর প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সঙ্কট
ইসরাইলি রাজনীতির এই উগ্র পথ কেবল সামরিক সঙ্ঘাতই বাড়ায়নি; বরং ইসরাইল ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অর্থনীতিতে গভীর অস্থিরতা তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা, ডলার সঙ্কট এবং পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে, যার সরাসরি খেসারত দিচ্ছে সাধারণ নাগরিকরা।
ইসরাইলের অনেক প্রগতিশীল মানুষ ও অর্থনীতিবিদ মনে করেন, স্থায়ী যুদ্ধাবস্থা তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিরক্ষা খাতে বাজেটের বিশাল অংশ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অবহেলিত হচ্ছে। কিন্তু ইসরাইলি সমাজের গভীর স্তরে যুদ্ধের জাতীয় মনস্তত্ত্ব এবং অস্তিত্ব রক্ষার ভীতি এতটাই প্রবল যে, সেখানে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির যুক্তির চেয়ে ‘নিরাপত্তার ভীতি’ সবসময়ই জয়ী হয়। মানুষ দিনশেষে পকেটের স্বস্তির চেয়ে কথিত সামরিক সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেয়, যা শান্তির পরিবর্তে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্ঘাতের চক্রকে প্রলম্বিত করছে।
আন্তর্জাতিক চাপের প্রভাব ও ভবিষ্যতের পথ
ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বর্তমানে এক নজিরবিহীন টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। একদিকে ইসরাইলের বেশির ভাগ ভোটার কঠোর সামরিক প্রতিশোধ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখার পক্ষ নিচ্ছে; অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সঙ্ঘাত সীমিত করতে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে।
এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কেবল নেতৃত্ব বদলের ওপর নয়; বরং ইসরাইলি সমাজের ‘নিরাপত্তা-ধারণা’র আমূল পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। প্রশ্ন উঠেছে, সামরিক আধিপত্য কি আসলেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করতে পারে? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সামরিক শক্তিতে নয়, প্রকৃত ও স্থায়ী শান্তি আসে সামাজিক স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে।
কঠোর দমনপীড়ন ও অবরোধ অনেক সময় সাময়িক বিজয় দিলেও তা অবদমিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও নতুন প্রজন্মের প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্ম দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারাও এখন ইসরাইলকে সংযত হওয়ার যে বার্তা দিচ্ছেন, তা মূলত এই কূটনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।
শেষ কথা
ইসরাইলি রাজনীতি একটি দীর্ঘ, জটিল এবং অবিশ্বাসে ভরা পথ অতিক্রম করছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর এক নিপুণ প্রতিনিধিমাত্র। তিনি থাকলেই এই নীতি চলবে, আর তিনি গেলেই পরিস্থিতি আমূল বদলে যাবে এমন ভাবা বোকামি। বেন গভির বা বেজালেল স্মোটরিচের মতো অনেক উগ্রবাদী নেতা ইসরাইলে আছেন।
আসলে ‘আমালিক’ ধারণা থেকে বেরুতে না পারলে ইসরাইলিদের মধ্যে মানবিক চেতনা স্থান পাবে না। পুরো পৃথিবীকে ‘আমালিক’ মনে করার এই ধ্বংসাত্মক চক্রের মধ্যে পড়ে এক সময় তাদের নিজেদেরই বিলুপ্তি ঘনিয়ে আসতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতির দিকে তাকালে হবে না; বরং এই অবিশ্বাসের জট খোলার জন্য শক্তিশালী সংলাপে জোর দিতে হবে। অন্যথায় লেবানন, গাজা বা পশ্চিম তীর— সবই হবে এক দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার অন্তহীন চক্র, যার খেসারত দিতে হবে পুরো বিশ্ববাসীকে। অশান্তির এই ধোঁয়াশার মধ্যেও কূটনীতির দরজা খোলা রাখাই হবে আগামীর জন্য একমাত্র আশার আলো।
লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত