বাংলাদেশ আজ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সমস্যার মুখোমুখি নয়। বাজারে অস্বস্তি, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ এবং সড়কে অব্যাহত প্রাণহানি- সব কিছু মিলিয়ে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে- রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা কি তার মৌলিক দায়িত্ব যথেষ্ট দক্ষতা, প্রস্তুতি ও জবাবদিহির সাথে পালন করতে পারছে? এই প্রশ্ন এখন আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

৬ আগস্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সঙ্কট, নিত্যপণ্যের মূল্য, আইনশৃঙ্খলা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিক দীর্ঘযাত্রা, রেলযাত্রা ও ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা অঞ্চল, ২৪ অক্টোবর সিলেট এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ- এভাবে কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। এই কর্মসূচিকে শুধু জামায়াতের দলীয় আন্দোলন বলে উড়িয়ে দেয়া যেমন ভুল হবে, তেমনি জোটের প্রতিটি বক্তব্যকে বিনা প্রশ্নে পুরো জনগণের অভিন্ন মত বলে ধরে নেয়াও সঠিক নয়। প্রশ্নটি আরো মৌলিক।

জনদুর্ভোগ যদি বাস্তব হয়, সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করা বৈধ; আর সেই দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে নামা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার ও দায়িত্ব।

আজকের সঙ্কট শুধু পরিসংখ্যানের পাতায় নয়। তার নির্মম চেহারা দেখা যায় সাধারণ মানুষের ঘরে। অনেক মা-বাবার সামনে এখন কঠিন হিসাব- একই আয় দিয়ে সন্তানের খাবার, ওষুধ, পড়াশোনা আর সংসারের অন্যান্য প্রয়োজন কিভাবে মেটাবেন। বাজার থেকে কষ্ট করে খাবার কিনে আনলেও কোথাও রান্নাঘরে আরেক সঙ্কট- গ্যাসের চাপ নেই, উনুন জ্বলে না। শহরে গ্যাসচালিত অটোরিকশার চালককে দীর্ঘ সময় গ্যাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাস না পেলে গাড়ি চলে না, গাড়ি না চললে আয় বন্ধ। তার গাড়ির চাকা থামার সাথে সাথে পরিবারের রুটি-রুজির চাকাও থেমে যায়।

গ্রামেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। কৃষকের সেচ ব্যাহত হলে তার ক্ষতি শুধু কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎহীনতা নয়; সাথে জড়িয়ে থাকে ফসল, ঋণ এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেও অস্বাভাবিক বা কথিত ‘ভুতুড়ে’ বিলের অভিযোগ মানুষের ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে তোলে। সাথে যুক্ত হয়েছে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার খবর মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে- আইন কি সত্যি সাধারণ নাগরিকের জন্য সমানভাবে কাজ করছে? আর সড়কে বের হলে দুর্ঘটনা, বেপরোয়া যানবাহন ও বিশৃঙ্খলার ভয় প্রতিদিনের জীবনের আরেক অনিশ্চয়তা।

বাবা-মা যখন সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খান, কৃষক সেচের বিদ্যুৎ পান না, সিএনজি অটোচালক গ্যাসের অভাবে আয় হারান এবং নাগরিকরা যখন নিজের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন- তখন সমস্যাগুলো আর বিচ্ছিন্ন থাকে না। প্রশ্নটি শাসনের হয়ে যায়।

২০২৬ সালের জুনে সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ; খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। সংখ্যাগুলো আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে- এটি স্বীকার করেও বলা যায়, মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে থাকলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ যে এখনো প্রবল, তা অস্বীকার করা যায় না।

সরকার আন্তর্জাতিক বাজার, বিনিময় হার, যুদ্ধ, আমদানি ব্যয় এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক সমস্যার কথা বলতে পারে। এসব কারণ বাস্তব। কিন্তু এগুলো কোনো সরকারের জন্য সীমাহীন দায়মুক্তি হতে পারে না। সরকার বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না; কিন্তু দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পারে। কৃত্রিম সঙ্কট ও কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থার অদক্ষতা কমাতে পারে। সেই সাথে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় মুদ্রা, রাজস্ব ও বাজারনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আনতে পারে। শাসনের পরীক্ষা সঙ্কট এসেছে কি না- সেখানে নয়; সঙ্কট এলে সরকার মানুষের ওপর তার আঘাত কতটা কমাতে পেরেছে- সেখানে।

গ্যাস ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। মহেশখালীর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস গ্রহণকেন্দ্রে ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আংশিক সরবরাহ পুনরায় শুরু হলেও দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা আনুমানিক তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে জাতীয় গ্রিডে সাধারণ সরবরাহ প্রায় দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ দুর্ঘটনাটি সঙ্কটের একমাত্র কারণ নয়।

দুর্ঘটনা বরং আগে থেকে থাকা দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিপর্যয় ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও গৃহস্থালি সরবরাহ এত দ্রুত চাপে পড়বে কেন? জরুরি বিকল্পব্যবস্থা কোথায়? দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কত দ্রুত এগোচ্ছে? আমদানিনির্ভর ঝুঁকি কমাতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চয়ব্যবস্থা কত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে?

জ্বালানি নিরাপত্তা কাগজে স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতার সংখ্যা নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা হলো প্রয়োজনের সময় নির্ভরযোগ্যভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাওয়া। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নটি আরো গভীর। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এক হাজার ৭৭৮টি হত্যা মামলা রেকর্ড হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কিছু অপরাধের সূচকে উন্নতিও হয়েছে; তাই একটি মাত্র সংখ্যা দিয়ে গোটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বিচার করা ঠিক নয়। কিন্তু হত্যার এই বৃদ্ধি উদ্বেগজনক- এ কথাও অস্বীকার করা যায় না।

তবে আসল প্রশ্ন সংখ্যার চেয়েও বড় : আইন কি প্রভাবের চেয়ে শক্তিশালী?

একজন দোকানদার চাঁদাবাজকে বেশি ভয় পাবেন, নাকি চাঁদাবাজ পুলিশকে ভয় পাবে? একজন নাগরিক অভিযোগ করার আগে যদি ভাবতে হয়- অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় কী, তার পেছনে কে আছে, সে কতটা প্রভাবশালী, তাহলে সমস্যাটি শুধু অপরাধের থাকে না; তা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রশ্নে পৌঁছে যায়।

আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অর্থ কোনো আলোচিত ঘটনার পরে কয়েকটি অভিযান নয়। এর অর্থ এমন ব্যবস্থা, যেখানে অপরাধী জানবে- দল, অর্থ, প্রভাব বা পরিচয় তাকে আইনের বাইরে রাখতে পারবে না।

নাগরিককে বিচার চাওয়ার মূল্য হিসাব করতে হবে না; অপরাধীকে অপরাধের মূল্য হিসাব করতে হবে।

সড়কেও একই প্রশ্ন। শুধু জুন মাসে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পথচারী ৯১ জন ও ৫৮ জন শিক্ষার্থী। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, দুর্বল যানচলাচল ব্যবস্থাপনা, সীমিত নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা এবং পরিবহন খাতের অনিয়ম- এসব বহুদিনের পরিচিত সমস্যা। রোগ আমরা জানি, আইন আছে, প্রতিষ্ঠান আছে, প্রতিবেদন আছে। যা যথেষ্ট নেই, তা হলো ফল ও জবাবদিহি।

একটি দুর্ঘটনা হতে পারে; কিন্তু একই জানা কারণ বছরের পর বছর মানুষের প্রাণ কেড়ে নিলে সেটি আর শুধু চালকের ভুল থাকে না; তা শাসন ও আইন প্রয়োগের পরীক্ষায় পরিণত হয়।

এই বাস্তবতায় দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনীতির নীরব থাকার সুযোগ নেই। মানুষ মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকবে, গ্যাস-বিদ্যুতের জন্য ভুগবে, জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে- আর বিরোধী দল নির্বিকার থাকবে, এটি কার্যকর গণতন্ত্রের ধারণার সাথে যায় না। যেখানে মানুষের চুলা জ্বলে না, জীবিকা থেমে যায় এবং নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তৈরি হয়, সেখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিলাসিতা নয়; তা দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনীতির কর্তব্য।

এই জায়গাতে ১১ দলীয় জোটের দীর্ঘযাত্রার গণতান্ত্রিক যৌক্তিকতা রয়েছে। কিন্তু এখানে জোটের দায়িত্ব শেষ নয়। শুধু সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরলে চলবে না। দ্রব্যমূল্য কিভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কিভাবে বাড়বে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কিভাবে নির্ভরযোগ্য হবে এবং আইনশৃঙ্খলাকে কিভাবে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী স্বার্থের ঊর্ধ্বে নেয়া হবে- তার বিশ্বাসযোগ্য বিকল্পও জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের দাবি যদি একই আন্দোলনের অংশ হয়, তাহলে আরো একটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন- প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধারণ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন আনবে? কিভাবে তা আরো জবাবদিহিমূলক সরকার, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ এবং উন্নত জনসেবা নিশ্চিত করবে? শুধু সাংবিধানিক দাবি ও রান্নাঘরের সঙ্কটকে একই মঞ্চে রাখলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় না। সেই সম্পর্ক জনগণকে বোঝাতে হবে। এটিই বিরোধী জোটের বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

একই সাথে দীর্ঘযাত্রা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবন অযথা অচল করা, জনসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করা বা সহিংসতার আশ্রয় নেয়া প্রতিবাদের নৈতিক শক্তি ধ্বংস করবে। জনদুর্ভোগকে রাজনৈতিক দাবিতে রূপ দেয়ার অধিকার বিরোধী দলের আছে; নিজেদের কর্মসূচির মাধ্যমে সেই দুর্ভোগ আরো বাড়ানোর অধিকার নেই। সরকারের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব সমান স্পষ্ট। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে প্রশাসনিক সমস্যা হিসেবে না দেখে যে বাস্তব অসন্তোষ তার জন্ম দিয়েছে, সেটিকে মোকাবেলা করতে হবে।

আন্দোলন ঠেকিয়ে মূল্যস্ফীতি কমে না। ব্যারিকেড দিয়ে গ্যাস আসে না। বক্তৃতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না। বিরোধী দলকে দোষ দিয়ে সড়ক নিরাপদ হয় না। কাজের উত্তর দিতে হয় কাজ দিয়ে।

বর্তমান সরকার এসব সমস্যার সবকটির জন্মদাতা নয়। এ সত্য স্বীকার করা ন্যায়সঙ্গত। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের অর্থ শুধু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকার গ্রহণ নয়; সমস্যার দায়িত্বও গ্রহণ করা। উত্তরাধিকার বলে দেয় আপনি কোথা থেকে শুরু করেছেন; কোথায় গিয়ে পৌঁছেছেন- তার জবাব আপনাকে দিতে হবে।

বাংলাদেশের এখন প্রয়োজন পরিমাপযোগ্য জবাবদিহি। দ্রব্যমূল্য, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, সহিংস অপরাধ, চাঁদাবাজি ও সড়কে প্রাণহানি- প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করতে হবে। ফল জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিণতিও থাকতে হবে। কারণ পরিণতি ছাড়া জবাবদিহি কেবল একটি শব্দ।

শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রশ্ন খুব সহজ- আমি কি পরিবারের প্রয়োজনমতো বাজার করতে পারছি? আমার ঘরে রান্নার গ্যাস আছে? আমার জীবিকা চালানোর মতো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি আছে? বিপদে পড়লে আইন কি আমাকে রক্ষা করবে? আমার সন্তান নিরাপদে ঘরে ফিরবে তো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি দীর্ঘদিন অনিশ্চিত থাকে, তাহলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে শুধু ‘বিরোধী রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সরকারের পরীক্ষা হলো- সে প্রতিবাদ ঠেকাবে, নাকি প্রতিবাদের কারণ দূর করবে। বিরোধী দলের পরীক্ষা হলো- সে মানুষের ক্ষোভকে সহিংসতায় নিয়ে যাবে, নাকি বিশ্বাসযোগ্য বিকল্পে রূপ দেবে। আর জনগণের পরীক্ষা হলো- কে শুধু কথা বলে, আর কে বাস্তব সমাধান দিতে পারে, তা বিচার করা।

সঙ্কট তাই শুধু দ্রব্যমূল্যের নয়, শুধু গ্যাস-বিদ্যুতের নয়, শুধু আইনশৃঙ্খলা কিংবা সড়ক নিরাপত্তারও নয়। এসবের মধ্য দিয়ে যে বড় প্রশ্নটি সামনে এসেছে, সেটি হলো- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সাথে কি সমান মাত্রায় দায়িত্ব, সক্ষমতা ও জবাবদিহি আছে? যদি না থাকে, তবে সঙ্কটের সঠিক নাম একটাই- শাসনব্যর্থতা।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য

rtlbddhaka@yahoo.com