হাশিমুদ্দিন আহমদ

ইতিহাসের প্রয়োজনে আর ভবিষ্যৎ বংশধরের বৃহত্তর স্বার্থে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কর্মময় জীবন স্মরণ করতে হয়। তেমনি স্মরণীয় একটি নাম ফজলুল কাদের চৌধুরী। চল্লিশ দশকে উপমহাদেশে মুসলমানদের পৃথক আবাসভূমির দাবিতে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের সংগ্রামে ব্রিটিশ সরকারের হাতে প্রথম ও একমাত্র মুসলিম লীগ নেতা হিসাবে কারারুদ্ধ ও সাজাপ্রাপ্ত জনাব চৌধুরীর ত্যাগ ও অবদান চিরঞ্জীব হয়ে আছে। তিনি কলকাতায় বৃহৎ মুসলিম ছাত্রাবাস কারমাইকেল হোস্টেল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসাবে ডালহৌসী স্কোয়ারে স্থাপিত কুখ্যাত হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ আন্দোলনের অগ্রণী ছাত্রনেতা হিসেবে তৎসময়ের বঙ্গীয় ছাত্র সমাজের কাছে একজন সংগ্রামী ও বলিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তখন থেকে আমি তাকে জানি। ব্রিটিশ সরকার নবাব সিরাজুদ্দৌলার নামে কলঙ্ক লেপনের লক্ষ্যে অন্ধকূপ হত্যার স্মৃতিস্বরূপ হলওয়েল মনুমেন্ট স্থাপন করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডিফেন্স কাউন্সিলে যোগদানের প্রশ্নে কায়েদে আজমের সাথে মতানৈক্য সৃষ্টি হয় শেরে বাংলার। তিনি ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে মুসলিম লীগ ত্যাগ করে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জীর হিন্দু মহাসভার সাথে আঁতাত করে ঐ মাসেই মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেন। এই মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার জন্য মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খানকে চেয়ারম্যান করে বাংলা মুসলিম লীগ একটি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এতে খাজা নাজিমুদ্দিন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এম এ ইস্পাহানী, আবুল হাশিম, মৌলভী তমিজ উদ্দীন খান প্রমুখ প্রবীণ নেতারা সদস্য ছিলেন। আর তৎসময়ের সর্বভারতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত মুসলিম ছাত্রনেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীকে এ কমিটির সেক্রেটারি করা হয়। তখন তিনি নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।

সংগ্রাম পরিষদের সেক্রেটারি হিসেবে জনাব চৌধুরী কলকাতা মুহাম্মদ আলী পার্কে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিবাদ সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সে দিন শুনেছিলাম চট্টগ্রামের সিংহের গর্জন। তেজোদীপ্ত নেতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘জেল হোক আর ফাঁসি হোক এই আন্দেলন সাফল্যমণ্ডিত না হওয়া পর্যন্ত ক্ষান্ত হবো না।’ তিনি কথা রেখেছিলেন। তিনি নির্ভয়ে জ্বালাময়ী ভাষায় বক্তব্য রেখে মুসলিম জনতার হƒদয়ে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ফলে ১৯৪২ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তাকে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় দেশ রক্ষা আইনে (ডিআরআই) কারারুদ্ধ করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।

তার গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। দৈনিক আজাদ ফজলুল কাদের সপ্তাহ পালন করে। মুসলিম লীগ, মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন এবং বঙ্গীয় মুসলিম ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রদেশ ও জেলায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। কায়েদে আজম, জনাব সোহরাওয়ার্দী, স্যার শাহনেওয়াজ ভুট্টোর মতো প্রবীণ নেতারা তারবার্তা ও বিবৃতি দিয়ে তাকে ‘প্রথম মুসলিম মুজাহিদ’ বলে আখ্যায়িত করেন।

খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ ১৯৪৩ সালের ২ এপ্রিল দ্বিতীয়বার বাংলায় ক্ষমতাসীন হলে জনাব সোহরাওয়ার্দী খাদ্যমন্ত্রী হন। দলীয় সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রী ও দলীয় পদ দু’টি এক সাথে রাখার বিধান না থাকায় জনাব সোহরাওয়ার্দীকে দলীয় সম্পাদকের পদ ছেড়ে দিতে হয়। তার জায়গায় বর্ধমানের প্রখ্যাত জননেতা আবুল হাশিম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে প্রবীণ ও নবীন নেতাদের গ্র“পভিত্তিক তৎপরতা শুরু হয়। সেই সময়ে জনাব সোহরাওয়ার্দী ও জনাব হাশিমের নেতৃত্বে তরুণদের সমন্বয়ে প্রগতিশীল আর প্রবীণ নেতা খাজা নাজিমুদ্দিন ও খাজা সাহাবুদ্দিন, আকরাম খান প্রমুখের নেতৃত্বে প্রবীণদের রক্ষণশীল গ্র“প হিসেবে দলে দুটি শিবিরের সৃষ্টি হয়। প্রগতিশীল গ্র“পে ছাত্র সমাজের অর্থাৎ তরুণদের নেতৃত্বে ছিলেন ফজলুল কাদের চৌধুরী।

১৯৪৪ সালে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলে সুসংগঠিত হয়ে রক্ষণশীল গ্র“প জনাব আবুল হাশিমের পুনর্নির্বাচনের পথে প্রবল বাধার সৃষ্টি করেন। এ সময়ও ফজলুল কাদের চৌধুরী তরুণ কাউন্সিলরদের নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং জনাব হাশিমকে কাউন্সিল মঞ্চে নিয়ে আসেন। সে নির্বাচনে আবুল হাশিম বিপুল ভোটাধিক্যে পুনর্নির্বাচিত হন।

১৯৪৬ সালে সিরাজগঞ্জে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ কাউন্সিলে জনাব চৌধুরী ‘আই ডিড নট ট্রাই’ দিয়ে পর পর একুশটি বাক্য উচ্চারণকালে সমস্ত কাউন্সিল একুশবার করতালিতে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার নামে জিন্দাবাদ স্লোগান দেয়। এ সময় সভাপতির আসনে উপবিষ্ট কায়েদে আজম অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ইংরেজিতে উচ্চারণ করেন, ‘মাই বয়, ইউ হ্যাভ প্র“ভড ইউর অ্যাবল লিডারশিপ।’ আবার দেখেছি ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে দলীয় কাউন্সিলে লাহোর প্রস্তাবে ‘স্টেটস’র সংশোধন করে সেখানে ‘স্টেট’ করার সময় জনাব আবুল হাশিম ও উত্তর প্রদেশের মাওলানা হজরত মোহানীর সাথে কায়েদে আজমের সামনে প্রতিবাদমুখর হতে। মাত্র যে এগারটি ভোট সংশোধনীর বিরুদ্ধে পড়েছিল তার মধ্যে জনাব চৌধুরী ছিলেন অন্যতম। প্রগতিশীল গ্র“পটি বাংলার যেখানেই রক্ষণশীলদের বাধার মুখে পড়েছে সেখানেই উপস্থিত হয়ে জনাব চৌধুরীকে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে দেখেছি।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুসলিম লীগ যখন সম্পূর্ণ রক্ষণশীলদের দখলে চলে যায়, তখন প্রগতিশীল গ্র“পের তরুণ কর্মী ও নেতারা ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে এক কর্মী সম্মেলনে মিলিত হয়ে আমরা গঠন করি আওয়ামী মুসলিম লীগ। এ দিন শেরে বাংলার সাথে জনাব চৌধুরী মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও পরে নতুন দলে যোগ দেননি।

১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাকে মুসলিম লীগ মনোনয়ন না দেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সরকার দল ও যুক্তফ্রন্ট প্রার্থীদ্বয়কে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। এ সময় ভেবেছিলেন হয়তো এবার তার নেতাদের সাথে অর্থাৎ শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টে বিশেষ করে আওয়ামী মুসলিম লীগে যোগ দেবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে যুগপৎ দলকে সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতি লাভের সহায়তা ও দলীয় আদর্শের প্রতি অবিচল থাকার এক গৌরবময় অধ্যায় সৃষ্টি করেন, যা ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলে একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবে ফজলুল কাদের চৌধুরী যে ইতিহাস তৈরি করেছেন তা উল্লেখ না করলে তার প্রতি অবিচার করা হবে। আবুল হোসেন সরকারের কোয়ালিশন মন্ত্রিসভায় (আমি তখন আবদুস সালাম খানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মন্ত্রী ছিলাম) সীমান্তে চোরাচালান দমনকল্পে সেনাবাহিনী নিয়োজিত করেছিল। পরে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ কোয়ালিশন সরকার তা বলবৎ রাখলে কংগ্রেস দলীয় সদস্য চিত্তরঞ্জন সুতার (বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত) ও বাংলাদেশের ভূমিতে একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েমের অপচেষ্টায় লিপ্ত) এর প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ভোটাভুটিতে আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র একটি ভোটে জিতে কোনোমতে অনাস্থা প্রস্তাবের মোকাবেলা করেছিল। ভোটাভুটির সময় দেখা গেল মুসলিম লীগে অংশগ্রহণ না করলেও জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে তথা অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। অথচ সরকার সমর্থিত সমাজতন্ত্রী দলের সদস্যরা পর্যন্ত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। পরে সংবাদপত্রে দেখলাম লীগ সংসদীয় দলের নেতা জনাব পনির উদ্দিন আহমদ এ জন্য কারণ দর্শাতে বললে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন ‘দেশ ও জাতির প্রশ্নে আমি কোনো কালে আপসকামী ছিলাম না, নাই এবং ভবিষ্যতেও থাকব না।’

আমি আবার সরাসরি তার সান্নিধ্যে আসি ১৯৫৭ সালের শেষের দিকে। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগদানের পর। এ সময় মুসলিম লীগ ক্ষমতাচ্যুত এবং ব্যালট রায়ে জনতা কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়ে এক করুণ অবস্থায় পড়লে প্রবীণ নেতারা তার সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাকে যুগপৎ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক ওয়ার্কিং কমিটি ও পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য করতে দলকে বাধ্য করেন। অথচ কিছু দিন আগেও দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। দেশে সামরিক শাসন জারি হওয়ার আগে ১৯৫৮ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আদমজি জুট মিলস্ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় ব্যর্থ হলে তিনি আবারো জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান নেন। ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে চরমভাবে পরাজিত করেন।

ষাটের দশকে তাকে দেখেছি দেশের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেণ্ট, জাতীয় সংসদের স্পিকার, একই সাথে কখনো ৮টি আবার কখনো ৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সংসদের সরকারবিরোধী সদস্য হিসেবে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ ও পূর্বাঞ্চলকে প্রতিরক্ষায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করার দাবিতে সোচ্চার এক বলিষ্ঠ, দক্ষ, সহনশীল, চারিত্রিক দৃঢ়তাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে।

রাজনীতিবিদ মাত্রই বিতর্কিত। ফজলুল কাদের চৌধুরীও বিতর্কিত ছিলেন। তাই তিনি যখন জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত হন, তখন সবার মনে সংশয় জাগলেও তার মেয়াদকালে সহনশীলতা, দৃঢ়তা, ন্যায়বিচার, সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রতি কঠোর আর বিরোধী দলের প্রতি নমনীয় মনোভাব গ্রহণের মাধ্যমে সংসদীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় যে ইতিহাস সৃষ্টি করেন তা সব মহলে যেমন প্রশংসিত হয় তেমনি সংসদীয় ইতিহাসে একজন অনন্য স্পিকার হিসেবে তাকে অধিষ্ঠিত করে।

তিনি সবসময় জনতার মানুষ হিসেবে নিজেকে দাবি করতেন এবং তার প্রমাণও দিয়েছেন। ঢাকা হাইকোর্টের রায় বলে সাংবিধানিক আওতায় মন্ত্রীদের সদস্যপদ বাতিল হয়ে গেলে কেন্দ্রীয় বা কোনো অঞ্চলের কোনো মন্ত্রীই মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে উপ-নির্বাচনে সাহস করে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেননি। কিন্তু জনাব চৌধুরী ‘আমি জনতার মানুষ- মন্ত্রিত্বের চেয়ে জনপ্রতিনিধিত্ব আমার জন্য শ্রেয়’ এ কথা ঘোষণা দিয়ে উপনির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা ও মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করার মতো অসীম সাহসের পরিচয় দেন।

জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় মুসলিম লীগের কর্মী হিসেবে এবং দলীয় প্রধান হিসেবে ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মম ও রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণের মধ্য দিয়ে তার পরিসমাপ্তি ঘটে।

(লেখক : জনাব হাশিমুদ্দিন আহমদ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রণ্ট টিকিটে প্রাদেশিক পরিষদ ও ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির টিকিটে জাতীয় সংসস সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে শেরে বাংলার মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ ও ১৯৫৫ সালে আবুল হোসেন সরকারের কোয়ালিশন সরকারে সালাম খানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ মনোনীত এবং ১৯৮৬ সালে (মে-ডিসে¤¦র) প্রেসিডেন্ট এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৬৩ হতে ১৯৬৯ পর্যন্ত পূর্ব পাক কনভেনশন মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন)